বীরভূম, স্নিগ্ধা চৌধুরী: বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেতা কাজল শেখ। বৃহস্পতিবার বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে তিনি ইস্তফাপত্র জমা দেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে যাবতীয় দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাজল শেখের ইস্তফার ঘটনায় বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন তাঁরই দলের জেলা পরিষদের সদস্যরা। সেই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আগামীকাল, শুক্রবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই সভাধিপতির পদ থেকে কাজল শেখের ইস্তফা রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জেলা পরিষদে নিজের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নেই, বিষয়টি বুঝতে পেরেই ভোটাভুটির আগে ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কাজল শেখ। যদিও তাঁর ইস্তফার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর তরফে বিস্তারিত কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বীরভূম জেলা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ৫২। তাঁদের মধ্যে ৫১ জন তৃণমূলের এবং একজন কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন বলে জানা যায়। তবে এক তৃণমূল সদস্যের মৃত্যুর পর বর্তমানে কার্যত সদস্য সংখ্যা কমে হয়েছে ৫১। ফলে জেলা পরিষদে তৃণমূলেরই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দলেরই একাংশের সদস্য কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। শুক্রবারের ভোটাভুটিতে কী ফল হয়, তা নিয়ে নজর ছিল জেলা রাজনীতির। কিন্তু তার আগেই ইস্তফা দেওয়ায় সেই ভোটাভুটির সম্ভাবনা কার্যত নতুন মোড় নিল।
কাজল শেখের ইস্তফার পর এবার বীরভূম জেলা পরিষদের পরবর্তী সভাধিপতি কে হবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। নতুন করে নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে জেলা তৃণমূলের অন্দরে ফের সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।