নিউজ ডেস্ক: সকালের স্টেশন এবং ব্যস্ত প্লাটফর্ম। চারপাশে অসংখ্য মানুষ কেউ ব্যস্ত ট্রেন ধরতে, আবার কেউ কেউ ব্যস্ত তাদের গন্তব্য অথবা অফিসে পৌঁছানোর তাড়ায়। আর সেই ভিড়েই লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে এক অসহায় বাবা। অভুক্ত শরীর চরম দুর্বলতায় উঠে দাঁড়ানোর জন্য শেষ শক্তিটুকুও পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল না তার কাছে এবং পাশেই কাঁদছিল তার ছোট্ট সন্তান। এই কঠিনতম দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়েও সাহায্য করার পরিবর্তে অসংখ্য মানুষ মানবিকতার বদলে বন্দী করছিলেন মুহূর্তটিকে মোবাইল ক্যামেরায়। তখনই মনুষ্যত্বের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন একজন সহনাগরিক।
ঘটনাটি এমনই বেদনাদায়ক যে যেকোনো সংবেদনশীল মানুষই স্পর্শকাতর হয়ে পড়বেন। বাবা তখন কার্যত নিস্তেজ, তার পাশে অসহায় ভাবে কাঁদছে ছোট্ট শিশুটি। কিভাবে নিজের ক্ষুধা মিটাবে সে- সেসব ভাবার বয়স তার এখনো হয়নি। চারপাশের ব্যস্ততার মাঝে আরো প্রকটভাবে ধরা পড়ছিল এই দুঃস্থ পরিবারটির অসহায়তা। ভিডিওটিতে দেখা যায় ঘটনাটিকে লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে একজন আরপিএফ (RPF), সহৃদয় ওই নাগরিকের সঙ্গে তিনিও ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়ান সেই মুহূর্তে।
https://x.com/gharkekalesh/status/2107537931984654528
পরিবারটির জন্য ব্যবস্থা করা হয় খাবারের। ঠান্ডা থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার জন্য দেওয়া হয় কম্বল। মুহূর্তের জন্য হলেও অসহায় বাবা এবং তার সন্তানের জন্য কিছু সময়ের জন্য নেমে আসে সামান্য নিরাপত্তা।এই ঘটনাটি আরও একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে বড় আর কিছুই হতে পারে না। আধুনিক বাংলা গানের জনপ্রিয় সেই সেই লাইন- “মানুষ মানুষের জন্য”- এই ঘটনার মাধ্যমে যেন আরো একবার সত্যি হয়ে উঠলো।
তবে ঘটনাটির আরো একটি দিক একটি প্রশ্ন নিয়ে আসে। যখন বিপন্ন একটি মানুষ অসহায় অবস্থায় প্লাটফর্মে পড়ে আছে, তখন সাহায্যের হাত বাড়ানোর আগে কেন ক্যামেরা উঠে আসলো আগে? প্রযুক্তির এই যুগে মুহূর্ত কে ধরে রাখা খুবই সহজ, তবে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যে প্রকৃত মানবতা এই ঘটনাটি যেন তারই একটি রূপক।
একজন নাগরিকের উদ্যোগ এবং আরপিএফ এর সহায়তা হয়তো কোনদিনই ওই পরিবারটির সমস্ত অভাব মুছে দিতে পারবে না। কিন্তু ক্ষুধার্ত বাবার পাশে এক বেলার খাবার এবং তার সন্তানের শীতল শরীরের ওপর উষ্ণ এক টুকরো কম্বল জড়িয়ে দেওয়া-কখনো কখনো সেটুকুই যুগিয়ে যায় আমাদের বেঁচে থাকার সাহস, এই এই ব্যস্ততম নিষ্ঠুর পৃথিবীতে।
