কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নতুন করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন টলি অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। টলিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলেও চলছে জোর চর্চা। অভিনয় জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মন জয় করা কোয়েল এবার পা রেখেছেন বঙ্গ বিজেপিতে। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পড়াশোনা, সবকিছু নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বাংলা ছবির দর্শকদের কাছে কোয়েল মল্লিক নামে পরিচিত হলেও তাঁর আসল নাম রুক্মিণী মল্লিক। কলকাতাতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। কলকাতার ভবানীপুরের বিখ্যাত মল্লিক বাড়ির মেয়ে কোয়েল। মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজোয় তো দেবী দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে কোয়েল দর্শনের জন্যও ভিড় জমে।
ছোটবেলার পড়াশোনা করেছেন শহরের মডার্ন হাইস্কুল ফর গার্লস-এ। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতারই গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস কলেজে ভর্তি হন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও যথেষ্ট আগ্রহ ছিল কোয়েলের। কলেজে তাঁর বিষয় ছিল মনোবিজ্ঞান। এই বিষয় নিয়েই স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেন অভিনেত্রী। জানা যায়, মনোবিজ্ঞান নিয়ে তিনি B.Sc (Honours) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অর্থাৎ টলিউডের এই তারকার শিক্ষাগত যোগ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মনোবিজ্ঞানে তাঁর স্নাতক ডিগ্রি।
কলেজজীবন শেষ হওয়ার পর অবশ্য অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন কোয়েল। ২০০৩ সালে ‘নাটের গুরু’ ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় আত্মপ্রকাশ। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক ও ভিন্নধারার বাংলা ছবিতে কাজ করে নিজের জায়গা তৈরি করেন। সময়ের সঙ্গে টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন কোয়েল। তবে ২০২৬ সালে তাঁর জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও দেখা যায় তাঁকে।
চলতি বছরের শুরুতেই তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয়েছিল কোয়েলকে। মার্চে নির্বাচনের পর ৬ এপ্রিল সংসদের উচ্চকক্ষে সাংসদ হিসেবে শপথ নেন তিনি। তবে রাজ্যসভায় তাঁর সাংসদ-জীবন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই, ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল। এরপর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা চলছিল। প্রথমে তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি। পরে সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির তরফে রাজ্যসভা উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থীও করা হয়েছে। ফলে কোয়েল মল্লিককে নিয়ে এখন শুধু তাঁর অভিনয় নয়, রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই তাঁর শিক্ষাজীবনের তথ্যও নতুন করে সামনে এসেছে।