নিউজ ডেস্ক: শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যাওয়ার পথে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে। গাড়ির কাচ ভাঙা অবস্থায় ঘটনার পর কুণাল সোজা ভবানী ভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছেও তৈরি হয় নতুন জটিলতা। পুলিশের তরফে তাঁকে গাড়ি নিয়ে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা হয়।
দুপুর তিনটে থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে ভাঙা কাচের গাড়ি নিয়েই ভবানী ভবনের সামনে পৌঁছন কুণাল। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক তাঁকে জানান, গাড়ি নিয়ে ভবনের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না। পাল্টা কুণালের বক্তব্য ছিল, তিনি গাড়িটি দেখাতেই সেখানে এসেছেন। গাড়ি বাইরে রেখে গেলে হামলার পরিস্থিতি কী হয়েছিল, তা বোঝানো সম্ভব হবে না বলেই দাবি করেন তিনি।
এরপর গাড়ি থেকে নেমে ভবানী ভবনের গেটের সামনে যান কুণাল। সেখানেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য ছিল, তাঁকে ভিতরে ঢোকানোর বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনও নির্দেশ নেই।
পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কুণাল জানান, তিনি সেখানে কোনও বিক্ষোভ করতে যাননি। বরং হামলার ঘটনায় নিজের অভিযোগ জানাতেই রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে এসেছেন। তাঁর দাবি, উত্তরপাড়া রাজ্য পুলিশের অধীনে হওয়ায় তিনি ভবানী ভবনে এসেছেন এবং রাজ্য পুলিশের কোনও আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে চান।
কুণাল বলেন, তিনি ‘নেমন্তন্ন খেতে’ ভবানী ভবনে আসেননি। তাঁর গাড়ির পরিস্থিতি দেখিয়ে ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানোই উদ্দেশ্য। গেটের সামনে প্রায় আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও ভিতরে প্রবেশের অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
এরপর কুণাল ঘোষ গাড়ি নিয়ে আলিপুর থানায় পৌঁছন। সেখানে তিনি জানান, শনিবার হওয়ায় ভবানী ভবনে অনেক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশ উত্তরপাড়া থানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
কুণালের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ইতিমধ্যেই ই-মেলের মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পুলিশ যাতে পদক্ষেপ করে, সেই আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে আরও কী তথ্য বা নথি দেওয়া যায়, সেটিও খতিয়ে দেখবেন বলে জানান বিধায়ক।
এর আগে উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়িতে ডিম, রড ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, ঘটনাটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
একই দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কুণালের গাড়িতে হামলার ঘটনায় সরব হয়েছেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ থেকে শুরু করে ভবানী ভবনে তাঁর প্রবেশে বাধা পাওয়ার ঘটনা,সব মিলিয়ে শনিবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
