নিউজ ডেস্ক: ব্ল্যাকবোর্ডে চক-ডাস্টারের বদলে শিক্ষকের নজর শুধুই স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। ছাত্রীদের পাঠদানের পরিবর্তে কখনও টেবিলে পা তুলে চলছে অনলাইন তাসের আসর, আবার কখনও ক্লাস চলাকালীনই কিশোরী ছাত্রীদের কাছে আবদার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম আইডির।
মধ্যপ্রদেশের ভিন্ড জেলার এক প্রত্যন্ত সরকারি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মুখ খুলল খোদ ছাত্রীরা। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষাঙ্গনের সার্বিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই বলছে কোন পর্যায়ে পৌঁছে যে আজকের সমাজ? একসময় ছিল যে সময় আমরা শিক্ষকদের গুরু বলে মানতাম ভয় পেতাম, এখন অনেক সময় দেখা যায় সেই শিক্ষকদেরই অপমান করতে, অসম্মান করতে। কিন্তু কিছু সময় এই ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী হন শিক্ষকরা নিজেরাও তার প্রমাণ হল এই ঘটনা।
চম্বল উপত্যকার ভিন্ড জেলার অন্তর্গত নয়াগাঁও থানার অধীনস্থ কোট গ্রামের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ঘটনায় কার্যত স্তম্ভিত স্থানীয় অভিভাবকেরা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, প্রশান্ত নামের ওই শিক্ষক ক্লাসে এসে শিক্ষাদানের কোনো দায়ভারই পালন করতেন না। সম্প্রতি পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্কুলের ছাত্রীরা। ক্যামেরার সামনে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক ছাত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলে, একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন পাঠদান করতে নাকি ক্লাসে বসে নাবালিকা ছাত্রীদের সামাজিক মাধ্যমের আইডি সংগ্রহ করতে?
অভিযোগ, ক্লাসের ভেতরে চেয়ারে গা এলিয়ে টেবিলের ওপর সটান পা তুলে রাখাই ছিল ওই শিক্ষকের নিত্যদিনের অভ্যাস। ক্লাস চলাকালীন ফোনে মগ্ন থেকে সময় কাটাতে দেখা যেত তাঁকে। সম্প্রতি সাংবাদিকেরা স্কুলে গিয়ে শ্রেণিকক্ষেই অভিযুক্ত শিক্ষককে এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি কোনো স্পষ্ট কোন জবাব দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘটনার একটি দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি সরিয়ে পড়তে ক্ষোভের কবে পেটে করেছেন অভিভাবক ও নেটিজেনরা।
একাংশ নেটিজেনদের বক্তব্য, গ্রামাঞ্চলের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্দশা কোন পর্যায়ে পৌঁছালে একজন শিক্ষক ক্লাসের মধ্যে এই ধরনের কাজ করতে পারেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমে আইডি চাওয়ার মতো ঘটনায় স্কুলপড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি শিক্ষা দপ্তরের নজরে এলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
