মালদা, নিউজ ডেস্ক : মালদা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। কখনও যানজটের জেরে আটকে পড়েছে গাড়ি, কখনও আবার রাস্তার ধারে এলোমেলো পার্কিংয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে চলাচলে সমস্যা। তার সঙ্গে টোটোর অবাধ যাতায়াত শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে বলে। উৎসবের মরশুমে সেই সমস্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে শহরের রাস্তায় যানবাহনের চাপ সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে প্রশাসন। শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃংখল করতে একাধিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি দায়িত্ব গ্রহণের পরই শহরের যানজট, পার্কিং এবং টোটো সমস্যা সমাধানের উদ্যোগী হয়েছেন। শহরবাসীকে স্বস্তি দিতে পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ এবং পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যাগুলির মোকাবিলার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ইংলিশবাজার পুরসভার সভাকক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদর মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার, পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার স্বাতী চক্রবর্তী, ইংলিশবাজার থানার আইসি পঙ্কজ সিং, ট্রাফিক আইসি মহেশ সিং-সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা। শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকদের যাতায়াতের সমস্যা কমানোর উপায় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের সমস্যা, গাড়ি রাখার উপযুক্ত জায়গার অভাব এবং টোটোর চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রেখে কিভাবে সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দুর্গা পুজোর সময় রাস্তায় মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ অনেকখানি বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে যাতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত দুর্ভোগের মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনিক পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর দশমীর পর আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে শহরে মাইকিং করে প্রচার শুরু করবে পুরসভা ও জেলা প্রশাসন। যান চলাচল সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা এবং নাগরিকদের সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অম্লান ভাদুড়ি ও সদর মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার জানিয়েছেন, শহরে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নতি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর শহরের যানজট কতটা কমে এবং টোটো চলাচল ও পার্কিং এর সমস্যা কতটা সমাধান হয়, সেদিকেই তাকিয়ে মালদাবাসি। প্রশাসনের এই উদ্যোগে শহরের নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ আদৌ কমবে কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনে।