এবার জনরোষের শিকার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা, জুতো ছোড়া হয়। এমনকি, ওঠে ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্ত এলাকা অশান্ত করতে এসেছেন মমতা।
গত শুক্রবার, উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কর্মী বিরজু কুমারকে তোলাবাজি ও মারামারির অভিযোগে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে হালিশহর থানার লকআপে রাখা হয়। কিন্তু পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন শনিবার মৃত্যু হয় বিরজু কুমারের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে লকআপের ভিতরেই বিরজু অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে দ্রুত কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে দেখা করে আসার সময় সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু ভোররাতে তাঁকে লকআপে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং কল্যাণী জহরলাল নেহেরু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পুলিশ হাসপাতালে দেহ ফেলে রেখে চলে যায় বলেও পরিবারের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রবিবার, নিহত তৃণমূল কর্মী বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে হালিশহরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, উপাসনা চৌধুরী। বিক্ষোভে মুখে পড়েন তাঁরা। মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা- চটি। দেওয়া হল ‘চোর-চোর’ স্লোগান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি, 'আমাদের গাড়িতে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে। এক ঘণ্টা গাড়ি আটকে রেখেছিল। বিজেপির লোক জোগাড় করে এই সব করানো হয়েছে। যিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি নিজে বাইরে রয়েছেন। পুলিশের সামনেই গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ গুন্ডাদের হাতে চলে গেছে। এই ভাবে আমায় আটকাতে পারবে না'