মালদা, নিউজ ডেস্ক: সেদিন বাড়িতে ফেরার পর ঠিক কি ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে ছুটে যেতে হয় এক তরুণীকে। প্রতিবেশীদের দরজায় গিয়ে সাহায্যের জন্য আকুতি জানান তিনি। শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত, সঙ্গে যন্ত্রণায় কাতর আর্তনাদ, তাঁকে দেখে শিউরে ওঠেন প্রতিবেশীরা। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও আশঙ্কা কাটেনি।
ঘটনাটি গত রবিবার হবিবপুর থানার বুলবুলচন্ডীর দেশওয়ালি পাড়ার। সূত্রে খবর,সন্দেহের বশে স্ত্রীকে মারধর করে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে ছুটে যান গৃহবধূ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে গৃহবধূর পরিবার। শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, মূল অভিযুক্ত স্বামী এখনও অধরা বলে অভিযোগ।
সূত্রে খবর, ওই তরুণীর নাম প্রেমা গুপ্তা (২৪)। তিনি বাসাবাড়িতে আয়ার কাজ করেন। অভিযোগ, সেদিন কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পরই স্বামী মিঠুন সিংহ তাঁকে পরকীয়ার সন্দেহের বশে মারধর করেন। এরপরই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তরুণীর পরিবারের। অগ্নিদগ্ধ অবস্থাতে কোনওরকমে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে ছুটে যান প্রেমা। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁকে প্রথমে বুলবুলচণ্ডী আরএন রায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে, অবস্থার অবনতি হওয়ায় মালদা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে তালপুকুর এলাকার মিঠুনের সঙ্গে প্রেমার বিয়ে হয়। তাঁদের এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ।আত্মীয়-প্রতিবেশীদের মধ্যস্থতায় মাত্র দু’মাস আগে ফের সংসার শুরু করেছিলেন তাঁরা। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী উপার্জন করলেও সেই টাকা নিয়ে নেশা করতেন মিঠুন। পরকীয়ার সন্দেহে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামীর গ্রেফতারের দাবী জোরালো হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, দ্রুত মিঠুনকে গ্রেফতার করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
