ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ ত্রাণবণ্টনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে প্রস্তুত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ক্যাগ)-র বহু প্রতীক্ষিত তদন্ত রিপোর্টটি আগামী শনিবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা হবে। বিধানসভায় এক বিবৃতিতে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বসূরী সরকার সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের নির্দেশনাসাপেক্ষ ও আইনিভাবে বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও এই ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ কিংবা আলোচনা থেকে বিরত থেকেছিল। তবে বর্তমান সরকার রিপোর্টটি প্রকাশ্যে এনে গৃহেই বিশদ আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
২০২০ সালের বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলির পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তহবিল থেকে দুই দফায় মোট ৩,৭৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিস্তর অভিযোগ ওঠে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত মানুষজনের বদলে প্রভাবশালীদের অনুগামীরা সেই অর্থ হাতিয়ে নেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্নীতি নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা হলে কলকাতা হাই কোর্ট নিরপেক্ষ ‘ক্যাগ’ অডিটের নির্দেশ দেয়।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্যাগ রিপোর্টে দুর্নীতির সাপেক্ষে যে সুপারিশই থাকুক, অপরাধী ব্যক্তি মন্ত্রী, প্রভাবশালী নেতা কিংবা উচ্চপদস্থ যিনিই হোন না কেন—রাজ্যপালের অনুমোদন সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরসহ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিপক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দাবি।
একই সাথে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা জোরদার করার বার্তার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) সংক্রান্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই কমিটির রিপোর্টও রাজ্য সরকারের হাতে খুব শীঘ্রই এসে পৌঁছাবে।