সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমি পুনরুদ্ধারে বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাও। শনিবার সুন্দরবন সফর শেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলাবাড়ি-কৃপাখালি এলাকায় প্রায় ১,৬০০ একর জমি পরিদর্শন করেন তিনি। অভিযোগ, ওই বিস্তীর্ণ এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন কেটে অবৈধভাবে মাছের ভেড়ি তৈরি করা হয়েছে।
পরিদর্শনের পর বনমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা ও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ওই জমিগুলি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে মাছের ভেড়ির জল বের করে জমি প্রস্তুত করা হবে। এরপর আগামী নভেম্বর মাস থেকেই সেখানে নতুন করে ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর কাজ শুরু হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর মাছের ভেড়ি তৈরি করা সম্ভব হবে না বলেই আশা প্রশাসনের।
মন্ত্রী আরও জানান, জমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ম্যানগ্রোভের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই এই বনাঞ্চল সংরক্ষণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।
এর আগে বনমন্ত্রী ঝড়খালির হেড়োভাঙ্গা বিদ্যাসাগর হাইস্কুলে অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি 'মায়ের নামে একটি গাছ রোপণ করুন' কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
সরকারের এই উদ্যোগে সুন্দরবনের ক্ষতিগ্রস্ত ম্যানগ্রোভ বনভূমি ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদী পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।