পুরুলিয়া, রেশমি ব্যানার্জি: পুরুলিয়ার স্কুল পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের দায়িত্ব এবার ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মানবাজারে একটি জলপ্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে একাধিক সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা নিয়ে ঘোষণা করেন তিনি। একইসঙ্গে মিড ডে মিলের রাধুনীদের কাজ নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী জানান, "বিজেপি সরকার প্রাইমারির বাচ্চাদের খাবারের জন্যও ১০ টাকা করে দিয়েছে। যাতে তারা ভাল খাবার পায়। কলকাতাতে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী ইসকনের খাওয়ার পাচ্ছে। বিরোধীরা বলছিল, বিজেপি আসার পর ইসকনের প্রসাদ খাওয়াবে, ডিম কোথায়? আমরা ইসকনের শুদ্ধ খাওয়ারও যেমন দিচ্ছি, সপ্তাহে ২ দিন ডিমেরও ব্যবস্থা করেছি। এর পরের তালিকাতে আমরা পুরুলিয়াকেও যুক্ত করেছি। পুরুলিয়াতেও মিড ডে মিলের দায়িত্ব আমরা ইসকনকে দেব। রাঁধুনিরা নিশ্চিত থাকুন, তাঁদের কারও কাজ যাবে না। এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দিয়ে সপ্তাহে ২ দিন ডিম পড়ুয়াদের পাতে দেব।”
মিড ডে মিলের পাশাপাশি এদিনের সভা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরে আসুন। শিল্পে ভরিয়ে দেব।” ভিবি জি রাম জি প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে আগামী দিনে ১২৫ দিনের কাজ এবং নতুন জব কার্ড দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ৬ মাসে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ হবে এবং সেইসঙ্গে প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করা হবে।
এই দিন সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ানও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, "আমরা জনগণনা শুরু করেছি। অবৈধভাবে যাদের ওবিসি করা হয়েছিল, তাদের বাতিল করে দিয়েছি। ভোটব্যঙ্কের স্বার্থে ও তোষণের জন্য অবৈধভাবে ওবিসি করে দেওয়া হয়েছিল। এবার স্কুল সার্ভিস কমিশন, পুলিশ সবমিলিয়ে এক লক্ষ্যের কাছাকাছি দ্রুত নিয়োগ হবে।" রেশন ব্যবস্থার দুর্নীতি বন্ধ, আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমার সম্প্রসারণের কথাও তিনি জানান।
সেইসঙ্গে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরকারের 'জিরো-টলারেন্স' নীতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “জামবনি ব্লকের একজন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। ঠিকাদারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিচ্ছিল। খপ করে ধরেছি , জেলে ভরেছি হাতেনাতে। আসানসোল-দুর্গাপুরে টোলপ্লাজাতে গাড়িতে বৈধ কাগজ রয়েছে। ওভারলোড নেই। তারপরও মোটর ভেহিক্যালের দু’জন ইঞ্জিনিয়ার ১৬ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছেন। ব্যবস্থা নিয়েছি।”
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়েও বড় ঘোষণা। রাজ্যে ৩০ লক্ষ বাড়ি তৈরীর কথা জানিয়ে শুভেন্দুর বার্তা, বাড়ির জন্য কেউ এক টাকা চাইলেও সরাসরি তাঁকে জানাতে হবে। একইসঙ্গে বালি নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করে আবাস প্রকল্পের উপভোক্তাদের নির্দিষ্ট দামে বালি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ মানবাজার মঞ্চ থেকে একসঙ্গে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও দুর্নীতি একাধিক ইস্যুতে বড় বার্তা দিল রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সভার পর আসার আলো দেখছে জঙ্গলমহলের মানুষজন। এবার পুরুলিয়ার ছেলে-মেয়েদের মিড ডে মিলের সংযোজন হবে ইসকনের সঙ্গে। এতে খুশি পড়ুয়ারা।