নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে চালু হল মূর্তি নদীর উপর তৈরি নতুন আর্চ ব্রিজ। মঙ্গলবার সেতুটির উদ্বোধন করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে। সেতুটি চালু হওয়ায় আগের রাস্তার তুলনায় প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কম পাড়ি দিতে হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই সেতু নাগরাকাটার সঙ্গে জলপাইগুড়ি এবং ডুয়ার্সের যোগাযোগ আরও সহজ করবে। লাটাগুড়ি, লুকসান ও মহাবাড়ির মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। মূর্তি নদীর উপর ধনুকাকৃতি নকশায় তৈরি হয়েছে এই সেতু। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কাজ চললেও নানা কারণে উদ্বোধন পিছিয়ে যায়। অবশেষে পুজোর আগে সেই অপেক্ষার অবসান হল। পাশাপাশি ডুয়ার্সের পর্যটন ক্ষেত্রেও এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গরুমারা, চাপরামারি-সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সুবিধা মিলবে।
মঙ্গলবার সেতু উদ্বোধনের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এলাকায় আরও দুটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। গত বছর দার্জিলিং পাহাড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কালিখোলা ব্রিজের পুনর্নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু করা হবে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় বিপর্যয়ের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর মুখে বন্ধ চা বাগানগুলি নিয়েও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলি ফের খোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাগান বন্ধ থাকায় যে সমস্ত শ্রমিক সমস্যায় রয়েছেন, তাঁদের কাছেও এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
চা শ্রমিকদের জন্যও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প থেকে রাজ্য ৩৩০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। বন্ধ চা বাগান খোলা থেকে শুরু করে শ্রমিকদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস, সব ব্যবস্থা করা হবে।' এদিকে দুর্গাপুজোর আবহেই ২০ শতাংশ হারে বোনাস পেয়েছেন ডুয়ার্সের ওয়াশাবাড়ি চা-বাগানের শ্রমিকরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝে চা বাগানের শ্রমিকদের নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বোনাসের টাকা পৌঁছে যাওয়ায় গোটা চা বলয়ে এখন খুশির হাওয়া।
পালাবাদলের আগে উত্তরবঙ্গের চা বাগানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য এককালীন ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। উৎসবের মরশুমে প্রতিশ্রুতি মতো সেই টাকা হাতে পাওয়ায় রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চা শ্রমিকরা।