শুধুমাত্র কোথাও বিক্ষোভ বা আন্দোলন চলছে বলেই নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দেশের শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সোমবার মামলার শুনানি হয়। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে এই যুক্তিতে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগকে ন্যায্য বলা যায় না। তিনি বলেন, প্রতিবাদকারীদের মতো পুলিশকর্মীদের জীবনও সমান মূল্যবান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
এই প্রসঙ্গে দেশজুড়ে বিক্ষোভ মোকাবিলার জন্য একটি অভিন্ন জাতীয় প্রোটোকল তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ, এই বিষয়ে দায়ের হওয়া সমস্ত আবেদন একসঙ্গে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সংসদ অভিযানে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি আদালতে জানান, ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসার ঘটনা ঘটছে এবং সেই সংক্রান্ত একাধিক আবেদন ইতিমধ্যেই দাখিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকেও মামলায় পক্ষ করা হয়েছে বলে তিনি জানান এবং জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন।
এর পরেই প্রধান বিচারপতি মামলাগুলি সোমবার শুনানির নির্দেশ দেন। সেই শুনানিতেই যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলনের সময় দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ-সহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে সেই অধিকার অযথা খর্ব করা যায় না।