দেশ জুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাস্তায় নেমেছিল যুব প্রজন্ম। বেশ কয়েকদিন আন্দোলন, পুলিশের হঠকারিতার বিপক্ষে এগিয়ে এসেছিল ছাত্র সমাজ। নিট বিতর্কের মুখে পড়ে ইস্তফা দিয়েছেন দেশের শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার নিট বিতর্কে ইস্তফার পর মুখ খুললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
জেন জেড-কে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এবং নিট প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষায় বেনিয়মের অভিযোগে দেশ জুড়ে হওয়া প্রবল ছাত্রবিক্ষোভের জেরে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার ভুবনেশ্বরের একটি অনুষ্ঠানে সেই সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন তিনি। তার কথায় উঠে এসেছে জেন জেড প্রসঙ্গ। তার দাবি, নিট বিতর্কের সময় দেশের নতুন প্রজন্ম বা জেন জেড-কে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করেছিল কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ। যাদের অভিসন্ধি ছিল শুধুমাত্র রাজনীতি।
ভুবনেশ্বরের জিএম ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, আমি জেন জেড এর শিকার। গত বেশ কিছুদিন ধরে এই গোটা ঘটনাটি যে ভাবে এগিয়েছে, তাতে আমার মনে হয়েছে কিছু মানুষ নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। শুধু এখানেই থেমে নেই, যোগ করেছেন রাজনীতির প্রসঙ্গও। তিনি জানান, এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে হাতিয়ার করে কেউ যাতে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে না পারে এবং পড়ুয়াদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
প্রসঙ্গত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে একাধিক পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছে। মনোবল ভেঙেছে একাধিকজনের। তার কথায়, জেন জেড আমাদেরই সন্তান। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বলেছিলাম, আমাকে এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে আমি বাচ্চাদের সামনে পরিস্থিতি স্বীকার করে নিতে পারি। আমার ব্যক্তিগত সম্মানের চেয়ে দেশের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনেক বড়। আমার কাছে মন্ত্রিত্বের পদ মোটেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।
এ দিন অন্য একটি সভা থেকে ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি প্রধান নবীন পট্টনায়েককেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ধর্মেন্দ্র। নিজের পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে বারবার মনে করিয়েছেন। সম্প্রতি বিজেডি কর্মীদের বিক্ষোভ এবং তাকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি কৃষকের ছেলে। আপনারা আমাকে ফিরে যেতে বললেও আমি বারবার ফিরে আসব।
যদিও এই মন্তব্যের পাল্টা মন্তব্য বিজেডি দলের। ধর্মেন্দ্রর এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেডি। দলের নেতা রোহিত পূজারি পাল্টা তোপ দেগে বলেছেন নবীন পট্টনায়েক তাকে বদনাম করতে যাবেন কেন? গোটা দেশ জানে তার জন্যই ২১ জন পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছে, ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী চরম হতাশায় ভুগছে। দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে। নিজের ও সরকারের ভুল নীতির জন্যই তিনি আজ বদনাম হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে ফের ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।