নিউজ ডেস্ক: প্রকৃতির রুদ্ররূপে ফের বিপর্যস্ত প্রতিবেশী দেশ নেপাল। রবিবার ভোরের ঘটনা ঘিরে ছড়িয়েছে উদ্বেগ। আচমকা জলস্ফিতি, কাদামাটি ও বড় বড় পাথরের স্রোতে তছনছ হয়ে গিয়েছে একাধিক জনবসতি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়ি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধার কাজে নেমেছেন স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের গোর্খা জেলার বুড়ি গণ্ডকী নদীতে। রবিবার, ১১ অক্টোবর, ভোর নাগাদ ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গোর্খা জেলার উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। সূত্রে খবর, চুমুবরি গ্রামীণ পৌরসভা এলাকায় ভূমিধসের কারণে নদীর জলপ্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই বাধা সরে যেতেই আচমকা জনপথের দিকে নেমে আসে বিপুল পরিমাণ জল ও পাথর। তার জেরেই তৈরি হয় এই ভয়াবহ পরিস্থিতি। এই হড়পা বানের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সালেরি বাজার সহ আশেপাশের একাধিক এলাকায়। বাগার, ঘাট্টিখোলা ও চুমচেটের মত জনবসতিতেও বন্যার জল ও পাথরের স্রোত আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলি তীব্র জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছে। আচমকা বিপর্যয়ের কারণে বহু মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি।
https://www.facebook.com/share/r/1Q7bNrG77v/
এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবর উঙ্গিলুং নদীর তীরে একটি সেডে থাকা চারজনের এখনও পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, স্যোতি ঘাটের স্টিল ব্রিজ সহ একাধিক ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে, সালেরি এলাকায় নির্মানাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এর ফলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং উদ্ধারকাজেও বাধার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের রেশ এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে থেকে গিয়েছে। তারই মধ্যে নেপালের এই বিপর্যয় নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও নদী তীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে নদীর জলপ্রবাহ আটকে গিয়ে আচমকা হড়পা বানের মত পরিস্থিতি তৈরি হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। আপাতত, নিখোঁজদের সন্ধান এবং বিপর্যস্ত পরিবারগুলিকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্ধার কাজ যতই এগোবে, ততই বিপর্যয়ের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি, নতুন করে জলস্ফীতি বা ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের আরও একবার সতর্ক থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে এই ঘটনা।
