কলকাতা,নিউজ ডেস্ক: নেপালে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়! হড়পা বান বিপর্যয়ের পর থেকেই স্ত্রী'র সাথে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে জানিয়েছেন শুভ্রাংশু রায়। গত ২১শে অগাস্ট নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল কলকাতা থেকে যাওয়া একটি ভ্রমণকারীর দল। ওই দলটি যাচ্ছিল মানস সরোবর।
সাংবাদিকদের শুভ্রাংশু জানান, 'শর্মিষ্ঠা ওই দলেই ছিলেন। একাই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।' শুভ্রাংশু আরও বলেন, ‘নিখোঁজ তালিকায় আমার স্ত্রীর নাম রয়েছে। ছেলেমেয়ে যায়নি। আমার সঙ্গেই রয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’
শুভ্রাংশুর ঘনিষ্ঠ বিশ্বজিৎ মিত্র বলেন, '৭ই সেপ্টেম্বর বৌদির ফেরার কথা ছিল। পরশু অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে শেষবার কথা হয়েছিল দাদার সঙ্গে। তখন নেপালের কোনও প্রত্যন্ত গ্রামে ছিল। কিন্তু বুধবার থেকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বৌদিকে।'
এছাড়াও, যে ৩২ জন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চন্দননগরের বাসিন্দা ও পেশায় গৃহশিক্ষিকা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নবান্নে বুধবার রাত থেকে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকেই নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। নেপাল সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী বলেন 'নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে সাত-আট জনের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকম ভাবে সহযোগিতা করবে।'
এদিকে নিজের সমাজমাধ্যম 'এক্স হ্যান্ডেল ' থেকে সহানুভূতি এবং পাশে থাকার বার্তা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন 'নেপালে আকস্মিক বন্যার মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং যাঁরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের নিরাপদে ফিরে আসার প্রত্যাশা করছি; পাশাপাশি আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। বাড়িঘর ও জনবসতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গভীর এই সংকটের মুহূর্তে আমি নেপালের জনগণের পাশে আছি এবং চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত সকলের ভূমিকার প্রশংসা করছি।'