রাজ্য সরকারের ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্তে সায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। চলতি বছরের ১৮ মে রাজ্য সরকারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ওপর কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেনি আদালত। এর ফলে ওবিসি তালিকার নতুন রূপরেখা কার্যকর রাখার পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আদালতের আগের নির্দেশ মেনে ৭৪টি জনগোষ্ঠী ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নতুন রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো জরুরি বা বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাজ্য আগেই মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আদালতের মূল রায় বর্তমানে সম্পূর্ণ বহাল রয়েছে এবং নতুন সরকার সেই রায়কেই পূর্ণ মান্যতা দিয়ে কাজ করছে। আদালত এ-ও উল্লেখ করে যে, এই ৭৪টি জনগোষ্ঠী বর্তমানে বাদ পড়লেও ভবিষ্যতে তারা কখনোই আর তালিকায় ফিরতে পারবে না—এমনটা কিন্তু রাজ্য কোথাও বলেনি।
অন্যদিক, জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে সওয়াল করেন যে, ৭৪টি জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার ফলে চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বহু মানুষ প্রভাবিত হবেন, তাই তাঁদের জন্য আদালতের আইনি রক্ষাকবচ প্রয়োজন। তবে ডিভিশন বেঞ্চ কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে সব পক্ষকে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ছয় সপ্তাহ পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, ২৭ জানুয়ারির আগে তৎকালীন সরকারের জারি করা পুরনো বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন নির্দেশিকা এনেছিল বর্তমান রাজ্য সরকার। সেখানে সরকারি চাকরিতে ওবিসিদের জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণ নির্দিষ্ট রেখে নতুন ‘১০০ পয়েন্ট রোস্টার’ প্রকাশ করা হয়। শ্রম দফতরের এই বিজ্ঞপ্তিতে গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’ পদে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থীদের জন্য ৪টি রোস্টার পয়েন্ট সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, যোগ্য ‘এক্সেম্পটেড ক্যাটাগরি’ প্রার্থী না পাওয়া গেলে সাধারণ নিয়মেই নিয়োগ সম্পন্ন করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।