নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি গ্রামে অদ্ভুত ও করুণ বাস্তবতার এক ছবি ধরা পরেছে। আর পাঁচটা সাধারণ গ্রামের মতো এখানেও অনেক পরিবার বাস করে, যাদের ঘরে বিবাহযোগ্য তরুণ-তরুণী আছে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, যখনই কোথাও সম্বন্ধ দেখার চেষ্টা হয়, তখনই হয় সমস্যা। এই গ্রামের নাম শুনলেই পাত্র বা পাত্রীর অভিভাবকরা বিয়ে দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এমনকি গ্রামের বাইরে থাকা আত্মীয়-স্বজনরাও এ গ্রামে যাতায়াত এড়িয়ে চলেন। অবিবাহিত তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে এই গ্রামটিতে। যেন এক অদৃশ্য অভিশাপে বন্দী—এমন গুঞ্জনই চারদিকে। এর পেছনে কি কোনো অলৌকিক বা ভৌতিক কারণ রয়েছে?
না, কোনো অভিশাপ বা অশুভ শক্তির প্রভাবে নয়; বরং এই অদ্ভুত সামাজিক বয়কটের নেপথ্যে রয়েছে এক নির্মম বাস্তব চিত্র। উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলার এই গ্রামটিতে দীর্ঘকাল ধরে সড়ক যোগাযোগের করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। বর্ষা বা শীত নয়, বছরের পর বছর ধরে এখানকার রাস্তাঘাট এতটাই বেহাল যে তা সভ্যতার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে গ্রামটিকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।
গ্রামটিতে প্রবেশের রাস্তাটি এতই দুর্গম ও খানাখন্দে ভরা যে, সেখানে গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও এক বিরাট ঝুঁকি। গাড়ি চলাচলের উপযোগী রাস্তার অভাবে শিশুদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন সমস্যা সেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী। গ্রামবাসীদের দাবি, ওই ভাঙাচোরা রাস্তায় দুই কিলোমিটারের যাত্রা প্রায় ২০০ কিলোমিটারের মতো মনে হয়।
পাহাড়ি কোনো বিপদসংকুল পথ পার হওয়ার চেয়েও এখানকার পথ চলা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। সামান্য পদক্ষেপে যে কোনো মুহূর্তে মারাত্মক আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর ঠিক এই কারণেই দূরদূরান্তের তো বটেই, এমনকি শহরের আত্মীয়-স্বজনরাও এই গ্রামে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। বিয়ের মতো একটি সামাজিক ও আনন্দের অনুষ্ঠানে বর বা কনেপক্ষের লোকজন এই ভয়াল রাস্তা পেরিয়ে আসার কথা কল্পনাও করতে পারেন না।
মির্জাপুরের দান্তি এবং গৌরা ভিসেন গ্রামের সংযোগকারী রাস্তাটি যথাযথ ভাবে নির্মাণ করা হয়নি। গ্রামবাসীরা এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কম চেষ্টা করেননি। রাস্তার বেহাল দশা দূর করতে বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, আবেদন-নিবেদন করেছেন, এমনকি অনশনের মতো কঠোর পথও বেছে নিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি; রাস্তার হাল ফেরেনি। ফলস্বরূপ, যোগাযোগের চরম বিপর্যয়ের কারণে আজও এই গ্রামের তরুণ-তরুণীদের বিয়ের পিঁড়িতে বসা এক অনিশ্চিত ও দুর্লভ স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বাইরের কারোর পক্ষেই এই গ্রামে পৌঁছানো আজ এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
