কোচবিহার, স্নিগ্ধা চৌধুরী: পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্রের সন্দেহে দিল্লি থেকে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল বেঙ্গল এসটিএফ। ধৃতের নাম প্রদীপ বসু। তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কোচবিহারে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে স্থানীয় আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
এসটিএফ সূত্রে খবর, কোচবিহার থেকে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া তিন ব্যক্তির সঙ্গে প্রদীপ বসুর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই তিনজন এমন একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে থাকা ব্যক্তিদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করত। সেই চক্রের সঙ্গে বসুরও কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রদীপ বসুর সঙ্গে জাল ভারতীয় নোট বা জাল মুদ্রার কারবারের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়িতে তাঁর একটি মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা রয়েছে। সেই ব্যবসার লেনদেন ও অন্যান্য বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি কয়েকজনের সঙ্গে প্রদীপ বসুর যোগাযোগ থাকার তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেই যোগাযোগের ধরন এবং এর পিছনে কোনও আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
গত ১৫ অগস্ট কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল বেঙ্গল এসটিএফ। ধৃতরা হলেন মহম্মদ শফিকুল ইসলাম, নুর নাসিরুদ্দিন আলি এবং রশিদুল হক। অভিযোগ, তাঁরা বিভিন্ন পরিচয়ে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশে থাকা সহযোগীদের কাছে পাঠাতেন। পরে সেই সিম কার্ড পাকিস্তানে পৌঁছত বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এসটিএফের অভিযোগ, ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কাজ চালানো হত। পাশাপাশি ভারত ও নেপালে জাল নোট পাচারের সঙ্গেও এই চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রদীপ বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নেটওয়ার্কের বিস্তার, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে এসটিএফ। তদন্ত যত এগোবে, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।