সদ্যসমাপ্ত কমনওয়েলথ গেমসে ৩৯টি পদক নিয়ে ভারত চতুর্থ স্থানে শেষ করলেও পাকিস্তানের প্রাপ্তির ভাঁড়ার ছিল প্রায় শূন্য। দেশের হয়ে একমাত্র পদক হিসেবে ব্রোঞ্জ জিতেছেন মহিলা বক্সার ফতিমা জাহরা। কিন্তু তাঁর সাফল্যও চাপা পড়ে গিয়েছে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায়। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর আচমকাই গেমস ভিলেজ থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন পাকিস্তানের পুরুষ বক্সার কুদরতুল্লা। এই ঘটনায় নতুন করে তীব্র অস্বস্তিতে পাকিস্তান বক্সিং ফেডারেশন।
পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন কুদরতুল্লা। নিজের লড়াই শেষ করার পর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ মিলছে না বলে দাবি দলের। এ দিকে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে একটি তথ্য সামনে আসায়। জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান দলের ম্যানেজারের কাছেই নাকি ছিল ওই বক্সারের পাসপোর্ট। অর্থাৎ পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি কোথায় গেলেন তা নিয়ে ধন্দে পড়ে গিয়েছেন সবাই।
যদিও পাক বক্সারদের এ ভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয় একেবারেই। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসেও প্রতিযোগিতা শেষে হদিশ মেলেনি দুই বক্সার সুলেমান বালোচ ও নজিরুল্লা খানের। সেবারও তাঁদের পাসপোর্ট দলের কর্তাদের কাছেই ছিল বলে জানা গিয়েছিল। এর পর আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় চাপ বাড়ছে পাক বক্সিং ফেডারেশনের ওপর।
প্রশ্ন উঠছে, বারবার প্রতিযোগিতা শেষে রহস্যজনকভাবে কোথায় উধাও হয়ে যান পাকিস্তানের বক্সাররা? ইতিমধ্যেই বিষয়টি আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে খবর। তবে পাকিস্তানের বক্সিং মানেই যেন নতুন নতুন বিতর্ক। এর আগে ২০২৪ সালে ইতালির বুস্তো আরসিজিও-তে অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন প্রতিযোগিতা চলাকালীন বিদেশি মুদ্রা চুরির অভিযোগ উঠেছিল এশিয়ান স্বর্ণপদকজয়ী জোহাইব রশিদের বিরুদ্ধে।
সেই বিতর্কের রেশ আজও টাটকা। আর তার মধ্যেই আবার এক বক্সারের রহস্যজনক অন্তর্ধান। ফলে গ্লাসগো গেমসে পাকিস্তানের একমাত্র পদকের আনন্দ কার্যত চাপাই পড়ে গিয়েছে নতুন এই বিতর্কে।