পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেন সে দেশের প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা মৌলানা ফজলুর রহমান। পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-এর প্রধান ফজলুর রহমান সরাসরি সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনা করে বলেন, রাজনীতি করতে হলে সেনাপ্রধানকে আগে সেনাবাহিনীর পোশাক খুলে নির্বাচনে লড়তে হবে।
সম্প্রতি এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, "যদি রাজনীতি করতে হয়, তবে আগে উর্দি খুলে রাখুন। তারপর নির্বাচনে অংশ নিন। তাহলেই বোঝা যাবে, উর্দির বাইরে আপনাকে কত মানুষ সমর্থন করে।" তাঁর এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ফজলুর রহমান পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিক মুফতি মাহমুদের ছেলে। মুফতি মাহমুদ খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানে শরিয়া আইন প্রবর্তনের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। একইসঙ্গে আফগানিস্তানের তালিবানের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথাও বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাবের বিরোধিতা নতুন নয় ফজলুর রহমানের কাছে। জেনারেল জিয়া-উল-হকের সামরিক শাসনের বিরোধিতায় গঠিত ‘মুভমেন্ট ফর দ্য রেস্টোরেশন অফ ডেমোক্রেসি’-র মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। সেই সময় থেকেই তিনি সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন।
আসিম মুনিরের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধও নতুন নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে পাকিস্তান তালিবানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে আফগানিস্তানের ভেতরে আন্তঃসীমান্ত হামলার যে কৌশল ইসলামাবাদ গ্রহণ করেছিল, তারও কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
আফগান তালিবানের প্রতি ফজলুর রহমানের সমর্থন দীর্ঘদিনের। গত শতকের শেষভাগ থেকেই তাঁর দল তালিবানের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিয়েছে। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় তৎকালীন পারভেজ মুশারফ সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করলেও তার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন ফজলুর রহমান। সে সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে মার্কিনবিরোধী এবং তালিবান-সমর্থক বিক্ষোভ ও সমাবেশেও নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।




