নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে CJP-র প্রস্তাবিত আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি। শনিবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করার পথে পুলিশ আটক করেছে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট এবং রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাস-সহ একাধিক বাম নেতাকে। SIR এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রতিবাদস্থলে পৌঁছনোর আগেই একাধিক নেতাকে আটক করা হয় বলে খবর।
যন্তর মন্তরের পথে বাধা
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কেরল হাউস থেকে যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন সিপিএম নেতারা। কিন্তু দিল্লি পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তাঁরা। প্রথমে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বৃন্দা কারাট, কে কে শৈলজা-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। পরে পিনারাই বিজয়ন, জন ব্রিট্টাস এবং কেরলের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপালকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়।
কেন এই আন্দোলন?
নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। আন্দোলনকারীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করতে হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিনের কর্মসূচিতে CJP-র পাশাপাশি বামপন্থী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থকেরাও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
‘গণতন্ত্রের হত্যা’, সরব পিনারাই
আটক হওয়ার আগে পিনারাই বিজয়ন পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হচ্ছে। অন্যদিকে, জন ব্রিট্টাসও পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে, CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পর আটক করা হয়েছে বলে খবর।
সব মিলিয়ে, SIR-বিতর্ক এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া এবং আন্দোলনের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে এখন নজর রয়েছে।