নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি। শুক্রবার সকালে দিল্লিতে যন্তরমন্তর চত্বরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ জমায়েত করে আম আদমি পার্টি। অনুমতি ছাড়া জমায়েতের কারণে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ-সহ একাধিক কর্মী-সমর্থককে আটক করে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। অন্যদিকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মুম্বইয়ে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
দিল্লির যন্তর মন্তর ও মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে জোড়া বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র-যুব ও রাজনৈতিক সংগঠন। তবে এই কর্মসূচির জন্য অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। সম্ভাব্য জমায়েতের কথা মাথায় রেখে দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ১৬৩ ধারা জারি করে যন্তর মন্তর চত্বর-সহ গোটা নয়াদিল্লি জুড়ে পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ দিল্লি এলাকায় জেলা পুলিশ, রিজার্ভ ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। কোথাও তাঁর ইস্তফা চেয়ে পথে নেমে চলছে বিক্ষোভ। কোথাও পোড়ানো হচ্ছে তাঁর কুশপুতুল। কেউ আবার পৌঁছে গিয়েছেন তাঁর বাসস্থানের সামনেও। স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির দেওয়ালে স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। তেমনই জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি তুলছেন বিরোধীরা। একই দাবি নিয়ে পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। সূত্রের খবর, সংসদের প্রস্তাবিত বিশেষ অধিবেশনের আগে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির।
সম্প্রতি, ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির অন্দরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর তোলা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। যা নিয়ে রীতিমতো বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
NEET প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের দু-মাস আগে উত্তাল হয়েছিল দিল্লির যন্তরমন্তর সহ গোটা দেশ। তারপর শেষমেশ সেই আন্দোলনের চাপেই পিছু হঠতে হয়েছিল মোদী সরকারকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। জেন জিদের সেই ককরোচ জনতা পার্টি আবার পথে নামছে শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর দিনে। অস্বচ্ছভাবে ভোট পরিচালনার অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবার আন্দোলনে নামছে তারা।
