ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনে নতুন মোড়! ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপি নেতা রঘুবর দাস 'জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়াম' 'পৌঁছে চলমান বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি হেমন্ত সোরেন সরকারের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দেন-আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ করতে হবে। না হলে তিনি অনশন করবেন।
আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করার জন্য রাজ্য প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এই বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, 'আমাদের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙে দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য হেমন্ত সোরেন সরকারের কর্মকর্তারা যে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।'
তিনি আরও জানান, 'আমি এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মীদের সতর্ক করতে চাই। আপনাদের নিজেদের ক্যারিয়ার বা পেশাগত জীবন নিয়ে ভাবা উচিত। আপনাদের ক্যারিয়ার ভারত সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। আপনাদের ক্যারিয়ার ঝাড়খণ্ডের জনগণের সঙ্গেও জড়িত। ঝাড়খণ্ডের করদাতাদের টাকা থেকেই আপনাদের বেতন ও বাংলোর ব্যবস্থা হয়।'
তিনি বিক্ষোভ দমনের চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন 'এই আন্দোলনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। অন্যথায়, ঝাড়খণ্ডের জনগণ আপনাদের পুরো ব্যবস্থাকে ইট-পাথর খুলে ধূলিসাৎ করে দেবে।' তিনি সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবিও জানান, এর মধ্যে উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ। এই প্রসঙ্গে রঘুবর দাস জোরালো দাবি তোলেন। তিনি জানান 'আমি দাবি জানাচ্ছি যে সরকার যেন ক্ষতিগ্রস্ত উনিশটি পরিবারের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়।'
প্রশাসনের ওপর আরও চাপ দিতে চাকরিপ্রার্থীদের আনা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করার জন্য আল্টিমেটাম দেন তিনি। তার বক্তব্য, 'যদি এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ না দেওয়া হয়, তবে আমি ভগবান বিরসা মুন্ডার নামে অনশনে বসব। ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আর ঝুঁকির মুখে পড়বে না—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই আন্দোলন চালিয়ে যাব।'