রায়গঞ্জ, নিউজ ডেস্ক: একটি ঘটনা, একাধিক প্রশ্ন এবং বিচারের অপেক্ষায় কেটে গেল দীর্ঘ তিন দশক। সময়ের সঙ্গে বদলেছে পরিস্থিতি পেরিয়ে গেছে বছরের পর বছর। কিন্তু, একটি মৃত্যুর ঘটনা আইনি নিষ্পত্তির অপেক্ষা শেষ হয়নি। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো আদালতে রায়ে। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে পুরনো একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।
১৯৯৬ সালে তৎকালীন রায়গঞ্জ কলেজের ছাত্র খুনের মামলায় অবশেষে রায় ঘোষণা করল রায়গঞ্জ জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল সেশন জর্জ কোর্টের বিচারক রোহন সিনহা। দীর্ঘ ৩০ বছর পর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার পাশাপাশি ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল রায়গঞ্জ জেলা আদালত। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম সৌমায়ন ঘোষ, ওরফে টুয়া। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই তারিখে। রায়গঞ্জ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট দেখতে গিয়েছিল সমীর দেবনাথ নামে এক ১৭ বছরের এক ছাত্র। অভিযোগ, সেখানে সৌমেন ঘোষ সমীর মোদক নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কিন্তু সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে লাগে নিরীহ ছাত্র সমীর দেবনাথের গায়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনায় রায়গঞ্জ থানায় খুনের মামলা দায়ের হয়।
এরপর দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। অবশেষে আজকের শুনানিতে বিচারক অভিযুক্ত সৌমায়ন ঘোষকে দোষী বলে সাব্যস্ত কড়ার পাশাপাশি দশ বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ দেন অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সেশন জজ কোর্টের বিচারক। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩০৭ সহ অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ।এদিন, এবিষয়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী সুব্রত দে বলেন, “দীর্ঘ ৩০ বছরের লড়াই এদিন বিচার পেল। ২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর এদিন বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।"। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জ আদালত ক্যাম্পাসে।
অন্যদিকে, আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় আদালত চত্বরে। আদালতের রায় শোনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিযুক্তের স্ত্রী পেশায় স্কুল শিক্ষিকা, ও শশুর রায়গঞ্জ জেলা আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী নারায়ণ ঘোষ। অভিযুক্ত সৌমায়ন ঘোষের বাবা তৎকালীন রায়গঞ্জ কলেজের অধ্যাপক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে চলা এই মামলার রায় ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ১৯৯৬ সালের সেই মর্মান্তিক ঘটনা। তবে, একটি পরিবারের কাছে যেমন এই রায় আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পরিনতি, তেমনই অন্যদিকে বহু বছর আগের সেই মৃত্যুর স্মৃতিও ফের সামনে নিয়ে এল।