মালদা, নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে আচমকায় বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। থানার মতো নিরাপত্তা বেষ্টিত একটি জায়গার সামনে ঘটে গেল এমন ঘটনা, যার অভিঘাত পৌঁছে গেল আদালত চত্বর থেকে শহরের রাজপথে। পরদিন সকালেই হাতে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় নামলেন একের পর এক আইনজীবী। তাঁদের ক্ষোভের কেন্দ্রে ঠিক কি ঘটেছিল, তা ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।
মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ থানার সামনেই আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল রায়গঞ্জ জেলা আদালত সহ রায়গঞ্জ শহরের রাজপথ। বুধবার উত্তর দিনাজপুর ডিস্ট্রিক্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আদালত ক্যাম্পাস সহ রায়গঞ্জ শহরের রাজপথ ধরে ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে রীতিমতন বিক্ষোভ মিছিলে পা মেলান শতাধিক আইনজীবী। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হন তাঁরা। আইনজীবীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে এক আইনজীবী সাগ্নিক চক্রবর্তী তাঁর মক্কেলকে নিয়ে রায়গঞ্জ থানায় এফআইআর করতে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় থানার সামনেই কিছু বহিরাগত দুষ্কৃতী তাঁর ওপর হামলা চালায়। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই রায়গঞ্জ থানা চত্বর প্রবল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই আজ আদালত চত্বর সহ রায়গঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হলেন আইনজীবীরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আক্রান্ত আইনজীবী সাগ্নিক চক্রবর্তী নিজেও। আন্দোলনকারী আইনজীবীদের দাবি, যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শুধুমাত্র আশ্বাস নয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই তাঁরা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই আইনজীবী মহলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাঁদের বক্তব্য, থানার মতো নিরাপত্তা নির্ভর জায়গায় যদি এমন ভাবে একজন আইনজীবীকে আক্রান্ত হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা নিশ্চিত, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আপাতত, পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আদালতপাড়া।
