কলকাতায় ২১ জুলাই শহিদ স্মরণ দিবসকে ঘিরে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে, তখন সেই সব জল্পনায় কার্যত ইতি টানলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার। মঙ্গলবার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের শহিদ দিবসের সভায় তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা দিয়েছে।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের ডাকা শহিদ স্মরণ কর্মসূচিতে একাধিক সাংসদ, বিধায়ক ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সভামঞ্চে লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি রাজীব কুমারকেও বসে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে তাঁকে না দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে মঙ্গলবারের উপস্থিতি সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজীব কুমার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাক্তন ডিজিপি। কর্মজীবনে তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালে সিবিআইয়ের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নার সময়ও তিনি রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। অবসর গ্রহণের পর চলতি বছরের এপ্রিলে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায়।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ও নেতা শিবির বদল করায় রাজীব কুমারকেও নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। বিশেষ করে বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁকে প্রকাশ্যে খুব কম দেখা যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরদার হয়। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেই রয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় অস্থিরতার আবহে রাজীব কুমারের এই প্রকাশ্য উপস্থিতি তৃণমূলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর এই পদক্ষেপ অন্তত আপাতত দলবদলের সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে এবং তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিও তাঁর আস্থার বার্তা তুলে ধরেছে।




