পুরুলিয়ার মাটির নিচে রয়েছে এমন এক খনিজের সন্ধান, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে যার গুরুত্ব অপরিসীম। কালাপাথর- রঘুডিহ এলাকায় বিপুল পরিমাণে খনিজের সন্ধান পাওয়ার কথা সংসদে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি। জানা গিয়েছে, এই খনিজের মধ্যে রয়েছে বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট। যা মোবাইল ফোন থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, বিমান, যুদ্ধবিমান এমনকি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বিজেপি সাংসদ শমিক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তরফে পুরুলিয়া ও দার্জিলিং- এ মোট ১৬ টি প্রকল্পের কাজ করেছে। পাশাপাশি, ২০২৫-২৬ ফিল্ড সিজনে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় আরও ১০ টি প্রকল্পের কাজ চলছে। কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালের সমীক্ষায় কালাপাথর-রঘুডিহ এলাকায় প্রায় ০.৬৭ মিলিয়ন টন খনিজের সন্ধান পাওয়া যায়।
এর মধ্যে প্রায় ০.১৯ শতাংশ রেয়ার আর্থ মিনারেল বলে জানা গিয়েছে। ফলে, এই এলাকা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনার মধ্যেও রয়েছে একটি বড় সমস্যা। কালাপাথর-রঘুডিহ ব্লকের নিলাম প্রক্রিয়া এখনো এগোয়নি। কেন্দ্রের দাবি, নিলামের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এখনো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয়নি। ফলে খনিজ উত্তোলন প্রক্রিয়া কার্যত আটকে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কেন্দ্র 'ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন' চালু করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জোগান নিশ্চিত করা- এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্বের রেয়ার আর্থের প্রায় ৯০% ভান্ডার চীনে।
এর মধ্যে রয়েছে ১৭ টি বিশেষ মৌল যার মধ্যে ১৫ টিকে একসঙ্গে ল্যান্থানাউস বলা হয়। এই ১৭ টি বিশেষ মৌলের ব্যবহার বর্তমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুলিয়ার মাটির নিচে থাকা এই সম্পদ ভবিষ্যতে বাংলার শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
রাজ্যের তরফ থেকে নিলামের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য কবে কেন্দ্রে পাঠানো হয় সেই অপেক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার। পুরুলিয়া ভারতের মাটিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে।