উত্তরবঙ্গ, রেশমি ব্যানার্জি: বৃষ্টিভেজা পাহাড়ি নির্জন রাস্তা। আচমকাই সেই রাস্তায় জঙ্গলের বুক চিরে বেরিয়ে এলো একটি পূর্ণ বয়সী লেপার্ড। ঠিক তার পেছনে পেছনে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসছে ছোট্ট ছোট্ট দুটি শাবক। মংপুং সংলগ্ন পাহাড়ি রাস্তায় পর্যটকদের চোখের সামনে ধরা পড়ল এমনই বিরল দৃশ্য। মুহূর্তেই যেন স্তব্ধ হয়ে গেল চারিদিক। এই দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেল পর্যটকদের গাড়ি। বিরল এই দৃশ্য মুঠোফোনে বন্দি করলেন পর্যটকেরা। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এখন এই ভিডিও আলোড়ন তুলেছে।
তবে লেপার্ড পরিবারের এই আকস্মিক আবির্ভাবের থেকেও বেশি চর্চায় এখন দুই শাবকের একজন। কারন ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পাশাপাশি থাকা দুই শাবকের গায়ের রঙে স্পষ্ট তফাত। একটি শাবকের গায়ে লেপার্ডের স্বাভাবিক ছোপছোপ রং, আর অন্যটির শরীর অনেকটাই কালচে। এই রং মূলত লেপাটের গায়ে সেভাবে দেখা যায় না। তাই উড়ছে একাধিক প্রশ্ন। এই অস্বাভাবিক রং দেখেই পর্যটক থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন তাহলে কি এটাই ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’? যার উত্তর এখনও অব্দি অজানা।
ভাইরাল ভিডিওতে কালো শাবকটিকে দেখে একাধিক কৌতুহল তৈরি হলেও শুধুমাত্র মোবাইলের ছবি বা ভিডিও দিয়ে তার পরিচয় সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। সেটি ব্ল্যাক প্যান্থার কি না, নাকি লেপার্ডেরই বিশেষ কোনও রঙের বৈশিষ্ট্য তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে।
এদিকে মা লেপার্ডের সঙ্গে শাবকদের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়েও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। কিছুক্ষণ রাস্তার উপর দেখা দেওয়ার পর ফের জঙ্গলের দিকে চলে যায় গোটা পরিবার। তবে এই ধরনের দৃশ্য যতই রোমাঞ্চকর হোক, বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ দূরত্ব থেকে দেখাই সবচেয়ে জরুরি। বিশেষ করে শাবক সঙ্গে থাকা অবস্থায় মা লেপার্ডকে ঘিরে ফেললে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই পাহাড়ি এলাকায় এই ধরনের বন্যপ্রাণীর দেখা মিললেও তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয় বনবিভাগের পক্ষ থেকে।
মংপুংয়ের পাহাড়ি পথে কয়েক মুহূর্তের এই সাক্ষাৎ এখন রীতিমতো ‘কালো রহস্য’। একই মায়ের দুই শাবক একজন স্বাভাবিক রঙের, অন্যজন অস্বাভাবিক কালো। এখন নেট মাধ্যমে এই ভিডিও ঘোরাফেরা করছে নেটিজেনদের ফোনে। আগ্রহ সহকারে এই ভিডিও দেখছেন সকলে। এই কালো রহস্যের উন্মোচন কবে হয় সেটারই অপেক্ষায় উত্তরবঙ্গবাসী।