স্পোর্টস ডেস্ক: নতুন করে ফের প্রশ্নের মুখে ভারতীয় ক্রিকেটের চোট-আঘাত সামলানোর পরিকাঠামো। সাম্প্রতিক সময়ে বেঙ্গালুরুতে বোর্ডের সেন্টার অব এক্সিলেন্সের (সিওই) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে একাধিক রিপোর্টে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে চোটের কারণে বাইরে থাকা তারকা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে খেলোয়াড়দের চোট ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি জবাবদিহির প্রয়োজন বলে জানালেন ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে যে, সিওই-র স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিক্যাল দলের সঙ্গে টিম ইন্ডিয়ার নির্বাচকদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি ফের প্রকাশ্যে এসেছে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জশপ্রীত বুমরাহ-র চোটও। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাসখানেক আগে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে বুমরাহ খেলতে পারবেন বলে প্রথমে জানিয়েছিলেন নির্বাচকরা। পরে জানা যায়, যেমনটা মনে করা হয়েছিল, বুমরাহ-র চোট সে তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর।
ফলে সিরিজ থেকে শেষপর্যন্ত ছিটকেই যান ভারতীয় পেসার। এই ঘটনা সামনে আসার পরই চোট সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদান এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অশ্বিনের দাবি, এ বার সময় এসেছে টেস্ট, এক দিনের এবং টি-টোয়েন্টির জন্য আলাদা দল গঠনের। প্রয়োজন হলে কয়েকজন ক্রিকেটার অবশ্যই একাধিক ফরম্যাটে খেলবেন, কিন্তু চোট-আঘাতের ক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও স্পষ্ট জবাবদিহি থাকা দরকার।
শুধু বুমরাহ-র প্রসঙ্গ নয়। বরুণ চক্রবর্তীকেও উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন অশ্বিন। তাঁর বক্তব্য, তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে খেলার অনুমতি চাওয়া হলেও বরুণকে বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে কয়েক মাস রাখা হয়েছিল। অশ্বিন জানিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে বরুণের ফিরে আসার কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত তাঁকে ২-৩ মাস সেখানে থাকতে হয়। তাঁর মতে, চোটের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি একজন ক্রিকেটারের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের খেলার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অশ্বিন জানান, ২০১৫ সালে অলিম্পিক লিফটিং করতে গিয়ে তাঁর সাইড স্ট্রেন হয়েছিল। এরপর তিনি স্ন্যাচ করা বন্ধ করে দেন।
অশ্বিনের বক্তব্যে তাই শুধু সেন্টার অব এক্সিলেন্সের ভূমিকা নয়, খেলোয়াড়দের নিজেদের দায়িত্বের কথাও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, কোন ধরনের ব্যায়াম বা প্রশিক্ষণ শরীরের জন্য উপযুক্ত, সেটাও ক্রিকেটারকে বুঝতে হবে। অলিম্পিক লিফটিং-এ শক্তি এবং গতি বাড়তেই পারে। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট অনুশীলন যদি কোনও ক্রিকেটারের চোটের ঝুঁকি বাড়ায়, তা হলে সেই বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। ফলে, সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন একটাই। চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং নির্বাচনের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিটা ঠিক কোথায়? অশ্বিনের মন্তব্য আরও জোরালো করে তুলেছে সেই প্রশ্নকেই।
