স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের কাছে হারের পরই কি পর্তুগালের জার্সি তুলে রাখার কথা ভেবেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো? প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বুধবার সিআর সেভেন নিজেই স্বীকার করলেন, এমন ভাবনা সত্যিই তাঁর মাথায় এসেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৪১ বছরের তারকা। তাঁর কথায়, এখনও জাতীয় দলকে সাহায্য করার মতো ক্ষমতা নিজের মধ্যে দেখতে পান তিনি। বৃহস্পতিবার নেশনস লিগে ওয়েলসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সাংবাদিক বৈঠকে রোনাল্ডো জানান, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে পর্তুগালের হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা সত্যিই ভেবেছিলেন।
বিশ্বকাপের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট এবং কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে কথাও বলেন রোনাল্ডো। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যত দিন মনে হবে জাতীয় দলকে কিছু দেওয়ার রয়েছে, তত দিনই তিনি খেলে যাবেন। রোনাল্ডোর কথায়, “আমি এখনও বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে সাহায্য করতে পারি। যখন মনে হবে এখানে আর কিছু করার নেই, তখনই শেষ করব।” পর্তুগালের হয়ে ইতিমধ্যেই ২৩৪টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ওয়েলসের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথম একাদশে তাঁর থাকা নিশ্চিত করেছেন কোচ জেসুস।
ইতিমধ্যেই লিওনেল মেসি তাঁর জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সিকে পাকাপাকিভাবে তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পর্তুগালের হয়ে রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নেহাত কম আলোচনা হচ্ছে না। দেশের বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল তাঁকে নিয়মিত সমালোচনা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রোনাল্ডোর দাবি, পর্তুগালের কিছু মানুষই চান যে, তিনি আর জাতীয় দলে না খেলুন। তবে এই ধরনের সমালোচনায় তিনি অভ্যস্ত। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে খেলার পর এমন পরিস্থিতি তাঁর কাছে নতুন নয়। একই সঙ্গে রোনাল্ডো মনে করিয়ে দিয়েছেন, এখনও দেশের হয়ে গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জেতানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
২০২৫ সালে পর্তুগালকে নেশনস লিগের খেতাব জেতানো রোনাল্ডো এখন কেরিয়ারের আরও একটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। হাজার গোলের ক্লাবে ঢোকার হাতছানি রয়েছে তাঁর সামনে। জাতীয় দলে নতুন প্রজন্ম উঠে আসছে বলেও মেনে নিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তবে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তা হল মাঠে নেমে গোল করা এবং দলকে জেতানো। অবসরের প্রসঙ্গে রোনাল্ডো হাসতে হাসতে জানিয়েছেন, অবসর নেওয়ার পরও মানুষ তাঁকে মনে রাখুক, সেটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, তরুণরা তাঁকে উদাহরণ হিসেবে দেখে, আর সেই কারণেই এখনও দেশের জার্সিতে নিজের সেরাটা দিতে চান তিনি।
