কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর ‘তৃণমূলীকরণ’ রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু, তারপর বদলে যায় সেই ছবি। বিজেপির দিকে পা বাড়াতে দেখা যায় একের তৃণমূল নেতা থেকে সাংসদ, বিধায়কদের। যা নিয়ে কার্যত বিজেপির তৃণমূলীকরণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এমতাবস্থায় গেরুয়া শিবিরকে সতর্ক করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর মুখপত্র ‘স্বস্তিকা’। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক চরিত্র নিয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
এইসব নিয়ে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এবার সাবধান করলেন আরএসএসের মুখপত্র স্বস্তিকা।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে,‘মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দলের আচরণ বা কাজকর্ম নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যদি এমন ধারণা তৈরি হয় যে পুরনো শাসকদলের সঙ্গে বিজেপির মৌলিক কোনও পার্থক্য নেই, তা হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।’
পাশাপাশি অল্প সংখ্যক ভোটারের মধ্যেও যদি বিজেপিকে পুরনো শাসনেরই বিকল্প মুখ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়, তার প্রভাব বড় অংশের ভোটারের উপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সম্পাদকীয়র বক্তব্য অনুযায়ী,‘মাত্র ২ শতাংশ মানুষ অথবা ভোটার মনে করে বিজেপি আদতে পনেরো বছর ধরে চলে আসা একটি ‘তস্কর’ সরকারের আর একটি রূপ। তবে তার ফলে ৯০ শতাংশ ভোটার বিজেপি থেকে সরে যেতে দ্বিধা বোধ করবে না।’ সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চিন্তা
ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া নতুন সরকারের কাছে অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছে সংঘের মুখপত্র।
একইসঙ্গে রাজ্যে দীর্ঘদিনের শাসনকালে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপকে ঘিরে যে অভিযোগগুলি উঠেছে, সেগুলির প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ের একাধিক বিতর্কিত ঘটনার উল্লেখ করে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দল দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাম-কংগ্রেসও আগের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। ফলে বিজেপির জন্য সামনে বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।