কার্শিয়াং, নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ি এলাকায় চা-বাগান মূলত শান্ত এবং মনোরম পরিবেশের জন্য পরিচিত। চা বাগানের শান্ত পরিবেশ আচমকায় বদলে গেল। যে এলাকায় সাধারণত দিনের শুরু হয় পাখির ডাক আর শ্রমিকের ব্যস্ততায়, সেখানে হঠাৎ শোনা গেল বিকট শব্দ। দূর থেকে ভেসে আসছিল গাছ ভাঙার আওয়াজ, আর সঙ্গে মাটি কাপানোর মতো ধাক্কা। প্রথমে কিছুটা হতভম্ব হয়ে যান স্থানীয়রা। পরে, তাদের সামনে আসে এমন এক দৃশ্য যা দেখে শিউরে ওঠার মত। বিশালাকার দুই প্রাণীর সংঘর্ষে কার্যত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে খবর দেওয়া হয় বন দফতরে।
সূত্রে খবর, কার্শিয়াং লংভিউ টি গার্ডেনের দুধিয়ার ৩৪ নম্বর এলাকায় এই ঘটনার সূত্রপাত। সেখানে দুটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতির মধ্যে শুরু হয় তুমুল লড়াই। চোখের সামনে মুখোমুখি দুটি বিশালাকার হাতি। একে অপরকে লক্ষ্য করে তেড়ে যাচ্ছে তারা। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি সঙ্গে তীব্র গর্জন। চা বাগানের গাছপালা যেন তাদের এই তীব্র সংঘর্ষের সাক্ষী। দুই দাঁতালের সংঘর্ষের দৃশ্য ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চা বাগান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, লড়াই করতে করতে হাতি দুটি যদি লোকালয়ের দিকে চলে আসে তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই তাড়াতাড়ি বনবিভাগে খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই বনবিভাগের কর্মীরা ছুটে আসেন সেই এলাকায়।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুষ হাতিদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এইরকম সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতিরা নিজেদের কর্তৃত্ব বিস্তার করার জন্য প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আবার স্ত্রী হাতিকেও কেন্দ্র করেও এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে, লংভিউ টি গার্ডেনে দুই দাঁতালের এই লড়াইয়ের পিছনে আসল কারণ কি, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনার পর থেকেই সতর্ক রয়েছে বন দফতর। পানিঘাটা রেঞ্জের বনকর্মীরা দুই হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখছেন। তবে, এই দুই দাঁতালের ফের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছে না বন দফতর। তাই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। চা বাগান এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বন দফতর পক্ষ থেকে। আপাতত সংঘর্ষের পর দুই হাতির গতিবিধি নজরে রাখছেন বনকর্মীরা। তবে, নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তাই কিছুটা হল আতঙ্ক রয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে।