কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: বিপর্যয় মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। মঙ্গলবার নবান্নে ‘অর্জুন বাহিনী’র সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ জন সদস্যকে নিয়ে কাজ শুরু করবে এই বাহিনী। আপাতত কলকাতা, পাহাড় এবং সুন্দরবনের দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলিতে এই বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এই বাহিনীকে আরও বৃহৎ আকারে সাজিয়ে তোলা হবে।
জানা গিয়েছে, ‘অর্জুন’ বাহিনীর প্রথম পর্যায়ে থাকবেন ২০০ জন কর্মী। তাঁদের মধ্যে কলকাতা থেকে ১০০ জন, পাহাড়ি এলাকা থেকে ৫০ জন এবং সুন্দরবন থেকে ৫০ জনকে রাখা হচ্ছে। ধাপে ধাপে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বিপর্যয়প্রবণ এলাকায় এই বাহিনী আরও বাড়ানো হবে। মুকুটমণিপুর, তারাপীঠ, তরাই-ডুয়ার্স-সহ একাধিক এলাকাকেও এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমফান থেকে তারাতলা দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতিও নেই। আগে এই দিকে কোনও নজর দেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অর্জুন শুধু একটি বাহিনী নয়, ভবিষ্যতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আদলে আরও একাধিক প্রশিক্ষিত বাহিনী গড়ে তুলতে চায় রাজ্য। কলকাতা, দিঘা ও দার্জিলিংয়ে সিভিল ডিফেন্স ও বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকাঠামোও ধাপে ধাপে তৈরি করা হবে।
‘অর্জুন বাহিনী’র সদস্যদের দেওয়া হবে বিশেষ পরিচয়। অর্থাৎ সাধারণ সদস্যদের বলা হবে ‘বীর’, আর নেতৃত্বদানকারীরা পরিচিত হবেন ‘বীর নায়ক’ নামে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘বীর’ সদস্যদের মাসিক ২৫ হাজার টাকা এবং ‘বীর নায়ক’দের মাসে ৪০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, কাজের ক্ষেত্রে গুরুতর আহত বা প্রাণহানির ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা এবং স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজ থাকবে।