নিউজ ডেস্ক: মাথায় হেলমেট, পিঠে ব্যাগ আর হাতে জাতীয় পতাকা। কোনও গাড়ি নয়, ট্রেন নয়, এমনকি সাইকেলও নয়। স্কেটের চাকায় ভর করে একের পর এক অচেনা রাস্তা পেরিয়ে চলেছেন এক যুবক। কখনও শহরের ব্যস্ত রাস্তা, কখনও গ্রামের প্রত্যন্ত পথ। তাঁকে দেখে পথচারীদের চোখ আটকে যাচ্ছে। কেন এমন অভিনব পথে বেরিয়েছেন তিনি? উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে আসছে দীর্ঘ এক ভারত ভ্রমণের গল্প।
জানা গিয়েছে, যুবকের নাম রুদ্রা। বাড়ি মধ্যপ্রদেশের কাটনি-জব্বলপুরে। দেশের বিভিন্ন ধরনের মানুষ, সংস্কৃতি এবং তাঁদের জীবনযাত্রাকে একেবারে কাছ থেকে জানতে স্কেটে চেপে ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ১৮টি রাজ্য ঘোরা হয়ে গিয়েছে তাঁর। এবার তাঁর যাত্রাপথে বাংলা। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের রাস্তায় জাতীয় পতাকা সঙ্গে নিয়ে তাঁকে যেতে দেখা যায়। রুদ্রার কথায়, দেশের বিভিন্ন মানুষের সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখতেই তাঁর এই অভিনব যাত্রা। তাঁর বক্তব্য, "নমস্তে, জয় শ্রীরাম। আমি ভারতবর্ষের মানুষের বিভিন্ন সংস্কৃতি দেখতে বেরিয়েছি। সাধারণ মানুষের জীবনকে যদি আসল ভাবে বুঝতে হয় তাহলে পায়ে হেঁটে, সাইকেলে বা স্কেটে চলতে হবে। নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি, তাঁদের খাদ্যাভাস, তাঁদের বেঁচে থাকার জন্য দৈনন্দিন সংঘর্ষ, সবকিছুই জীবনকে নতুন করে বাঁচার আলো দেখায়"।
জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে প্রথম এই যাত্রা শুরু করেন রুদ্রা। ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে প্রায় দু বছর একমাস কুড়ি দিন। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের ১৮টি রাজ্য ঘুরে দেখেছেন তিনি। পথ চলতে চলতে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করেছেন। কোথাও প্রকৃতি, কোথাও মানুষের জীবন, কোথাও স্থানীয় সংস্কৃতি, সবকিছুই তাঁর যাত্রার অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে। তবে, শুধু চোখে দেখা নয়, পথ চলার নানা অভিজ্ঞতাকে নিজের মতো করে ধরে রাখার চেষ্টাও করেছেন রুদ্রা। বিভিন্ন জায়গার প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ছবি স্কেচের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। ফলে, তাঁর কাছে এই সফর শুধুমাত্র সাধারণ ভ্রমণ নয়, বরং গোটা দেশকে কাছ থেকে জানার জন্য এক চলমান অভিজ্ঞতা।
দীর্ঘ এই যাত্রাপথে এবার বাংলাও তাঁর সেই অভিজ্ঞতার খাতায় এক নতুন অধ্যায় হতে চলেছে। যদিও গন্তব্য এখনও অনেক দূর। দেশের এখনও বহু প্রান্ত তাঁর দেখা বাকি রয়েছে। লক্ষ্য একটাই, স্কেটের চাকার সাহায্যে যতটা সম্ভব গোটা ভারতবর্ষকে খুব কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখা। নতুন রাস্তা, নতুন মানুষ আর নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে হতে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন রুদ্রা। তাঁর কাছে পথই যেন এক শিক্ষক আর প্রতিটি নতুন ঠিকানাই ভারতের অন্য এক পরিচয়ের দরজা।
