আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ও ইউটিউবার সময় রায়নাকে কড়া ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন না করায় সময় রায়না-সহ মামলার অন্যান্য উত্তরদাতার প্রত্যেকের উপর ৩ লক্ষ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা হয়েছে, তা জানিয়ে একটি কমপ্লায়েন্স হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত কিওর এসএমএ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের দায়ের করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে। অভিযোগ, ইউটিউব শো 'India's Got Latent'-এ সময় রায়না-সহ কয়েকজন কৌতুকশিল্পী এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি (এসএমএ)-তে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি অসম্মানজনক ও সংবেদনহীন। বিরল এই জিনগত রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবেদনকারী সংস্থা।
এর আগের শুনানিতেই বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত অধিকার হলেও তা কোনওভাবেই অন্যের মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ণ করার অধিকার দেয় না। আদালত তখন সময় রায়না-সহ সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সচেতনতার জন্য প্রতি মাসে অন্তত দুটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। আদালতের মতে, এটি শাস্তি নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব পালনের একটি উদ্যোগ।
মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত জানায়, সেই নির্দেশগুলি সম্পূর্ণভাবে পালন করা হয়নি। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। আদালতের নির্দেশকে হালকাভাবে নেওয়া বা তা অমান্য করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুনানির সময় আদালত আরও মন্তব্য করে, আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে দেখা হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, কৌতুকের সীমারেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের দায়বদ্ধতা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে এই মামলার পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর সময় রায়নার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে আদালতে কমপ্লায়েন্স হলফনামা জমা দেওয়ার পর মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।