স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন। এক সময় আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। সেই সরিতা গায়কোয়াড়ই এ বার প্রতারণার শিকার। অভিযোগ, ৬৯ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন ভারতের এই প্রাক্তন অ্যাথলিট। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গুজরাতে।
২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪০০ মিটার রিলে দলে সোনা জিতেছিলেন সরিতা। হিমা দাস, এম আর পুভাম্মা এবং ভি কে বিস্ময়ার সঙ্গে ভারতীয় দলের হয়ে সোনা জয়ের কৃতিত্ব ছিল তাঁর। সেই সাফল্যের পর রাতারাতি পরিচিতি পান গুজরাতের ডাং জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে। এক সময় জুতো ছাড়াই দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সরিতার জীবনের লড়াইও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল অনেককে।
কৃষক পরিবারের সন্তান সরিতা ছোটবেলা থেকেই দৌড়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ২০১৫ সালে গুজরাতের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের আয়োজিত প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় নজর কাড়েন তিনি। পরে জাতীয় স্তরে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে ভারতীয় দলে জায়গা করে নেন। এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পর গুজরাত সরকার তাঁকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিল।
২০২০ সালে গুজরাত পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট পদে যোগ দেন সরিতা। খেলাধুলার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এ বার প্রতারণার অভিযোগে তাঁর নাম সংবাদ শিরোনামে। ৬৯ লক্ষ টাকার এই আর্থিক ক্ষতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কীভাবে এই প্রতারণা করা হয়েছে, অভিযুক্তের পরিচয় কী এবং টাকা উদ্ধারের জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযুক্তের পলাতক থাকার খবর সামনে এলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে। যে অ্যাথলিট এক সময় দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে দেশের হয়ে সোনা জিতেছিলেন, তাঁর সঙ্গে এমন আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক।




