ঢাকা: শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আরও সাত জনের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। ২০২৪ সালের হাসিনা-বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়কার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ মামলায় মঙ্গলবার এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ট্রাইবুনালই এর আগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন আওয়ামী লীগের আরও সাত নেতা। তবে সাজাপ্রাপ্তদের কেউই বর্তমানে বাংলাদেশে নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তিন বিচারপতির বেঞ্চ সাত অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলি আরাফত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম।
এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ব্যাপক আকার নেয়। সেই আন্দোলনের সময় একাধিক হিংসা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে একাধিক মামলা শুরু হয়।
এই মামলাগুলির মধ্যে অন্যতম মামলায় গত বছরের নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছিল। একই মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে প্রাক্তন পুলিশকর্তা চৌধুরী আবদুল্লা আল-মামুনকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে তিনি রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, প্রাক্তন যুগ্ম কমিশনার সুদীপকুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের প্রাক্তন অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শাহ আলম মুহাম্মদ আখতারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
নতুন সাত জনের সাজা ঘোষণার পর ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংক্রান্ত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মোট ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে রয়েছেন এবং চার জন জেলে রয়েছেন।
ফলে নতুন করে সাত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ফের তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অভিযুক্তদের অধিকাংশই দেশের বাইরে থাকায় এই রায় বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।