বর্তমান সরকারের পথ চলা শুরু হয়েছে মাত্র আড়াই মাস। এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য দারুন সুখবর দিল রাজ্য সরকার। মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম পে কমিশন গঠন করেছে রাজ্য সরকার। আর এতেই খুশির হাওয়া গোটা রাজ্য জুড়ে।
বুধবার অর্থ দপ্তরের তরফে কমিশনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কমিশনের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। পরিকল্পনা যদি সঠিকভাবে এগোয় তাহলে আশা করা যাচ্ছে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হবে। আপাতত সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কমিশন এবং মহার্ঘ ভাতা তথা ডিএ নিয়ে আশার আলো দেখেছিল রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল রাজ্য সরকারের প্রথম বাজেটে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেটে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত সপ্তম পে কমিশন গঠনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিই এবার বাস্তবায়িত হওয়ার পথে।
রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কমিশনের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব অতনু চক্রবর্তীকে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গবেষক পার্থ মুখোপাধ্যায়, আইআইএম কলকাতার অধ্যাপক পার্থপ্রতিম পাল এবং রাজ্যের অর্থসচিব দেবীপ্রসাদ কারনাম।
দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কাছে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বেতন, ডিএ, ডিআর, পেনশন এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত নতুন নীতি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সরকার গঠনের মাত্র আড়াই মাসের আগে যে গতিতে সপ্তম পে কমিশনের কাজ এগোচ্ছে তাতে অনেকটাই খুশি সরকারি কর্মী ও পেনশন উপভোক্তারা।