স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে বড়সড় পরিবর্তন। হরমনপ্রীত কৌর অধিনায়িকার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরই তিন ফরম্যাটে ভারতীয় দলের নতুন ক্যাপ্টেন হিসেবে ঘোষণা করা হল স্মৃতি মান্ধানার নাম। দীর্ঘদিন হরমনপ্রীতের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন স্মৃতি। এ বার তাঁর কাঁধেই উঠল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ দায়িত্ব। মঙ্গলবার হরমনপ্রীত সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন অধিনায়িকা হিসেবে স্মৃতির নাম ঘোষণা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ফলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে শুরু হল নতুন অধ্যায়। ২৯ বছর বয়সি স্মৃতি ইতিমধ্যেই দেশের হয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৮টি ম্যাচ এবং এক দিনের ক্রিকেটে চারটি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এ বার সেই সাময়িক দায়িত্বই পরিণত হল পূর্ণসময়ের নেতৃত্বে। ব্যাট হাতে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় দলের অন্যতম বড় ভরসা স্মৃতি। এ বার তাঁর ক্রিকেটীয় দক্ষতার পাশাপাশি নেতৃত্বের ক্ষমতারও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
স্মৃতির অধিনায়িকা হিসেবে উঠে আসার পিছনে অবশ্য শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নয়, রয়েছে ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সাফল্যও। বিশেষ করে মহিলা প্রিমিয়ার লিগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে নেতৃত্ব দিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই ২০২৪ এবং ২০২৬, দু’বার মহিলা প্রিমিয়ার লিগের খেতাব জিতেছে আরসিবি। চাপের ম্যাচে দলকে সামলানো, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সতীর্থদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে স্মৃতির ভূমিকা বার বার প্রশংসিত হয়েছে। ফলে জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য তাঁর নাম সামনে আসাটা খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। বরং দীর্ঘদিন ধরে হরমনপ্রীতের উত্তরসূরি হিসেবে স্মৃতিকেই সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ বলে মনে করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের স্বাদ পেয়ে যাওয়ায় নতুন দায়িত্ব সামলাতে তাঁর খুব বেশি সময় লাগবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আরসিবির হয়ে ট্রফি জয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।
অন্যদিকে হরমনপ্রীতের অধিনায়কত্বের অধ্যায়ও শেষ হল এক দীর্ঘ পথ পেরিয়ে। বহু বছর ধরে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের নেতৃত্বের মুখ ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় দল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ও প্রতিযোগিতায় লড়াই করেছে। ব্যাট হাতে যেমন দলের অন্যতম বড় তারকা ছিলেন, তেমনই নেত্রী হিসাবেও ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন হরমনপ্রীত। তবে মঙ্গলবার তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর সরে দাঁড়ানোর পরেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল— এ বার কে? সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সামনে এল স্মৃতির নাম। অর্থাৎ অভিজ্ঞ নেতৃত্বের জায়গায় এলেন তুলনামূলক তরুণ, কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত এক তারকা। ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে স্মৃতির গ্রহণযোগ্যতা এবং সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও নতুন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এখন সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানাকে এ বার একই সঙ্গে অধিনায়িকা স্মৃতিকেও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়া আর মাঝে মধ্যে অধিনায়কত্ব করার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। নিয়মিত টস, একাদশ নির্বাচন, বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সাজানো থেকে শুরু করে ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই তাঁকে সামনে থেকে দলকে চালাতে হবে। তার উপর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে প্রত্যাশার চাপও কম নয়। আরসিবিকে দু’বার ডব্লিউপিএল চ্যাম্পিয়ন করার অভিজ্ঞতা অবশ্য স্মৃতির পক্ষে বড় সম্পদ। সেই সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এ বার জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলাতে নামবেন তিনি। হরমনপ্রীতের দীর্ঘ অধ্যায়ের পর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে স্মৃতির হাতে নতুন যুগের সূচনা কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেট মহলের।
