নয়াদিল্লি, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: মার্চ থেকে জুলাই, মাত্র ৫ মাসে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং ইউটিউবকে প্রায় ১.৯৫ লক্ষ ‘ব্লকিং অর্ডার’ পাঠিয়েছে কেন্দ্র ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একটি করে নির্দেশ! দিনে সংখ্যাটা প্রায় ১,২৭৫। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই ৫ মাসে সরকারি নির্দেশের সবচেয়ে বড় নিশানা ছিল ইনস্টাগ্রাম। প্রায় এক লক্ষ ব্লকিং অর্ডার পাঠানো হয়েছে মেটা-র এই প্ল্যাটফর্মে। ঘটনাচক্রে, এই সময়ের মধ্যেই দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদে পড়ুয়াদের আন্দোলনও জোরদার হয়েছিল।
সরকারি নির্দেশের পরিসর বুঝতে আগের পরিসংখ্যানটিও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ‘সহযোগ’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৯টি অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে মোট ২,৩১২টি ব্লকিং অর্ডার পাঠানো হয়েছিল। অর্থাৎ দিনে গড়ে মাত্র ৬টি। অথচ চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই, এই ৫ মাসেই সেই সংখ্যা পৌঁছে গেল প্রায় ১.৯৫ লক্ষে।
সরকারি এক আধিকারিকের দাবি, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ যত তীব্র হয়েছে, বিশেষত ইনস্টাগ্রামে, ততই বেড়েছে এই নির্দেশের সংখ্যা। ফেসবুক পেয়েছে প্রায় ৮০ হাজার এবং ইউটিউব প্রায় ১৫ হাজার নির্দেশ। অর্থাৎ মেটা-র দুই প্ল্যাটফর্ম মিলেই পেয়েছে মোট নির্দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, সরকারি নির্দেশ কার্যকর করার পদ্ধতিতেও এসেছে বড় বদল। তিন ঘণ্টার মধ্যে কনটেন্ট সরানোর সরকারি সময়সীমা মেনে চলতে মেটা ‘সহযোগ’ পোর্টালের সঙ্গে নিজেদের API যুক্ত করেছে। ফলে সরকারি নির্দেশে কোনও পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হলে তা পর্যালোচনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ভাবে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এতে কোনও নির্দেশ আইনসম্মত কি না, তা যাচাই করার সুযোগই থাকছে না। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অপার গুপ্তের মতে, এই ব্যবস্থা শর্তসাপেক্ষ আইনি দায়কে কার্যত বাধ্যতামূলক আনুগত্যে পরিণত করছে।
এই সময়ের ‘ব্লক’ হওয়া কনটেন্টের মধ্যে পড়ুয়াদের আন্দোলনের সমর্থনে পোস্ট, সরকারের ইথানল মিশ্রণ নীতির সমালোচনা, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় এবং ডিপফেক-সহ নানা ধরনের কনটেন্ট ছিল বলে দাবি। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালও জানিয়েছিলেন, ভারতে তাঁর কয়েকটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ব্লক করা হয়েছে।
‘সহযোগ’ পোর্টালের নির্দেশগুলি মূলত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯(৩)(বি) ধারার আওতায় জারি হয়। এর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ক্ষেত্রে ৬৯(এ) ধারাতেও পৃথক নির্দেশ দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত আইটি বিধিতে কনটেন্ট সরানোর সময়সীমা ২৪-৩৬ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২-৩ ঘণ্টা করায় প্ল্যাটফর্মগুলির উপর চাপ আরও বেড়েছে।