নয়াদিল্লি: মাঝ-আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে বিমান ও যাত্রীদের নিরাপদ রাখার ঘটনায় আলোচনায় আসা ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। শ্রী সোমনাথ মহাদেব মন্দিরে তাঁর সুস্থতা কামনায় মহাপূজার পাশাপাশি শুরু হয়েছে ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রজপ’।
সোমনাথ মন্দির ট্রাস্ট এবং স্থানীয় ভক্তদের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করা হয়। আয়োজকদের বক্তব্য, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি যে সাহস ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই আয়োজন।
https://x.com/DeshGujarat/status/2105593571462287778?s=20
সম্প্রতি দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একটি ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝ-আকাশে গুরুতর নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিমানের কো-পাইলটের আচরণ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। সেই সময় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে জানা যাচ্ছে।
ঘটনার সময় তিনি নিজেও আহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও বিমানের নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেন—এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলিতে। বিমানে থাকা প্রায় ১৮০ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা পাওয়ার পেছনে তাঁর ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরেও স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক মাধ্যমে ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সাহস ও সংকল্পের প্রশংসা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, চরম সংকটের মুহূর্তে এবং নিজে গুরুতরভাবে আহত থাকা সত্ত্বেও অন্যদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ক্যাপ্টেন মচ্ছর যে সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতো সাহসী ভারতীয়কে নিয়ে দেশ গর্বিত বলেও মন্তব্য করা হয়।
এদিকে বর্তমানে স্মিত মচ্ছরের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রয়েছে। তাঁর দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্যই সোমনাথের পবিত্র মন্দিরে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রজপের আয়োজন করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রকে আরোগ্য, দীর্ঘায়ু এবং বিপদ থেকে মুক্তির প্রার্থনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
সোমনাথের এই বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেওয়া ভক্তরা ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সুস্থতার জন্য মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করেন। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করে আয়োজকদের তরফে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
মাঝ-আকাশের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এখন স্মিত মচ্ছরের জন্য দেশজুড়ে শুভকামনা ও প্রার্থনা আসছে। সোমনাথ মন্দিরের মহামৃত্যুঞ্জয় জপ সেই প্রার্থনারই আরও একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।
