নিউজ ডেস্ক: শীর্ষ মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’-এর গ্রেফতারির পর মাওবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযানে আরও সাফল্য কলকাতা পুলিশের STF-এর। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হল আকাশের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মাওবাদী নেতা রাজু মাহাতো এবং তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত রাজু মাহাতো ‘পতিত পবন মাহাতো’ এবং ‘মঙ্গল’ নামেও পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, রাজুর বিরুদ্ধে একাধিক মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। একই অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজুর স্ত্রী মালতী মুর্মুকেও। পুলিশের নথিতে তিনি ‘মালা’ নামে পরিচিত বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর সন্ধান পেতে দুই লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এসটিএফ-এর আধিকারিকরা। ধৃত দম্পতির সঙ্গে আরও জড়িত আছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি শীর্ষ মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’-কে গ্রেফতার করে STF। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের মনিনাথপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে শীর্ষ মাওবাদী নেতাকে। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STFএবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার ভোরে এই গ্রেফতারি হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি মাওবাদী সংগঠনের একাধিক ঘাঁটিতে অভিযানের পর আকাশের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাঁর দলের কয়েকজন সদস্য ধরা পড়েন এবং দলের সঙ্গে থাকা অর্থ পুলিশের হেফাজতে চলে যায়। কার্যত অর্থসংকটে পড়ে তিনি কিছু টাকার ব্যবস্থা করতে পটাশপুরে নিজের শ্বশুর বাড়িতে এসেছিলেন বলে অনুমান করা হয়। আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি ছিলেন না বলেও জানা গিয়েছে। আকাশের শ্বশুর বাড়ি পৌঁছনোর খবর পাওয়ার পরে অভিযান চালানো হয়। তারপরেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
আকাশের গ্রেফতারির পরই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই রাজু ও মালতীর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর শালবনির জঙ্গলঘেরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের পাকড়াও করা হয়। ধৃত দু’জনের সঙ্গে আকাশের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তাঁরা সংগঠনের কোন কাজে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী কী অভিযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের আরও সদস্য এবং নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।