নিউজ ডেস্ক: ব্যস্ত রাস্তার ধার। প্রতিদিনের মতোই ছুটছে যানবাহন, আপন গতিতে হেঁটে চলেছেন পথচলতি মানুষ কিন্তু সেই যান্ত্রিক ব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ থমকে দাঁড়াল মানবতা।
রাস্তার পাশে ভেঙে পড়া এক ভারী কংক্রিটের স্ল্যাব বা পাথরের নিচে আটকা পড়েছিল একটি পথকুকুর। নড়াচড়ার উপায় নেই, একটু এদিক-ওদিক হলেই প্রাণ সংশয়। আর ঠিক সেই সময়েই তার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে সাহায্য চাইছিল তারই এক সারমেয় সঙ্গী,যা নজর এড়ায়নি কয়েকজন সহৃদয় যুবকের।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, পথের ধারে স্তূপাকার পাথরের মধ্যে আচমকাই একটি কুকুর চাপা পড়ে যায়। ভারী পাথরের নিচে সে কোনোমতে মাথা গুঁজে অসহায়ভাবে শুয়ে ছিল। পাশে দাঁড়িয়ে অন্য কুকুরটি অবিরাম ডেকে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে থাকে। যেন সে তাদের বোঝাতে চাইছিল ‘আমার বন্ধুকে বাঁচাও!’
সারমেয়টির সেই ব্যাকুল আর্তনাদ শুনে অবশেষে রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া এক যুবক এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নিঃসংকোচে স্ল্যাবটি তোলার চেষ্টা করেন এবং কুকুরটিকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
তবে একা ওই ভারী পাথরটি সরানো সম্ভব ছিল না, তাকে দেখে এগিয়ে এসেছিলেন আরো এক যুবক। দু’জনে মিলে ভারী পাথরটি সামান্য উঁচু করতেই নিরাপদে পাথরের নিচ থেকে বেরিয়ে আসে সারমেটি।
উদ্ধারের সেই মুহূর্তে যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গিয়েছিল ব্যস্ত রাস্তা। কেউ হাত লাগিয়েছেন, কেউ দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখেছেন, আবার কেউ মোবাইল ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধরে রেখেছেন। মানুষের এই সম্মিলিত উদ্যোগেই শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয় অসহায় প্রাণটির মুক্তি। বিপদের মুহূর্তে সামান্য মানবিক উদ্যোগ যে একটি প্রাণকে নতুন জীবন দিতে পারে, এই ঘটনাই যেন তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
প্রাণ ফিরে পেয়ে যেন কৃতজ্ঞতার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না দুই অবলা জীব। উদ্ধারের পরই উদ্ধারকারীদের পায়ে-হাতে মুখ ঘষে ভালোবাসা প্রকাশ করে তারা। সেই আবেগঘন দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই আপ্লুত হয়ে পড়েন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রায়শই অমানবিকতার নানা খবর ভেসে উঠলেও, এই দৃশ্য যেন ছিল একেবারে ভিন্ন। সম্প্রতি দেখা গেছিল এক মহিলা একটি সারমেয়কে ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দিচ্ছেন, কিন্তু এখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ এক ভিন্ন দৃশ্য, যা মন জয় করে নিয়েছেন নেটিজেনদের।
ঘটনাটি আরও একবার মনে করিয়ে দিল, মানুষের সঙ্গে প্রাণীদের সম্পর্ক শুধু সহাবস্থানের নয়, সেখানে মায়া, বন্ধুত্ব আর দায়িত্ববোধও রয়েছে। আর কখনও কখনও একটি অসহায় প্রাণীর জীবন বাঁচাতে বড় কোনও আয়োজনের প্রয়োজন হয় না — প্রয়োজন শুধু একটু সহানুভূতি এবং বিপদের মুহূর্তে এগিয়ে আসার মানসিকতা।
