নিউজ ডেস্ক: মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হল। মঙ্গলবার গঙ্গারামপুর ফুটবল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৫১ জন মহিলার হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। অনুষ্ঠানে বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী, জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার, সুবোধ সরকার-সহ দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য মহিলাদের হাতে কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং তাঁদের বাড়িতে বসে আয়ের রাস্তা করে দেওয়া। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মঙ্গলবার ৫১টি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার আরও ৬১৬টি সেলাই মেশিন বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রায় এক হাজার মহিলার হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির জন্য সেলাই মেশিনগুলি কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা CSR ফান্ডের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সেলাইয়ের কাজ জানা মহিলারা এই মেশিন ব্যবহার করে বাড়িতে বসেই পোশাক তৈরি বা সেলাইয়ের কাজ করতে পারবেন। এর ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি পরিবারের মোট আয়েও অতিরিক্ত সংযোজন হতে পারে।
অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন পাওয়া মহিলাদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। তাঁদের বক্তব্য, বাড়ির বাইরে গিয়ে নিয়মিত কাজ করার সুযোগ না থাকলেও বাড়িতে বসে সেলাইয়ের কাজ করা সম্ভব। ফলে সংসারের অন্যান্য দায়িত্ব সামলে আয়ের একটি অতিরিক্ত পথ তৈরি হতে পারে।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আজ ৫১ জনের হাতে এই সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার আরও ৬১৬টি সেলাই মেশিন বিলি করা হবে। জেলা জুড়ে মোট এক হাজার মহিলার হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি করাই লক্ষ্য।
দক্ষিণ দিনাজপুরে মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগও রয়েছে। কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের অধীন ‘Samarth’ কর্মসূচিতেও সেলাই মেশিন অপারেটর-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের একাধিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য সরকারি ড্যাশবোর্ডে পাওয়া যায়।
এদিনের কর্মসূচিতে অবশ্য শুধুমাত্র সেলাই মেশিন বিতরণ নয়, ভবিষ্যতে আরও মহিলাকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এক হাজার মহিলার হাতে মেশিন পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাড়িভিত্তিক সেলাইয়ের কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।
সেলাই মেশিন হাতে পাওয়া মহিলাদের অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা এই মেশিন ব্যবহার করে নিয়মিত কাজ শুরু করতে চান। তাঁদের আশা, নিজের বাড়ি থেকেই কাজের মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে তাঁরা আরও বেশি ভূমিকা নিতে পারবেন।
বালুরঘাটে এই কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় স্তরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী বুধবার আরও ৬১৬টি মেশিন বিতরণের কথা জানানো হওয়ায় এখন নজর সেই কর্মসূচির দিকে। এরপর ধাপে ধাপে জেলার মোট এক হাজার মহিলার হাতে মেশিন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।