নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দায়ের মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে। এবার এসআইআর মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে পদ থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে শীর্ষ আদালত।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হল। অভিযোগ, কমিশনের অন্য সদস্যদের সম্মতি ছাড়াই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং SIR সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়েই উঠেছে মূল প্রশ্ন। সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহন-এর বেঞ্চ উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে।
সম্প্রতি সর্বভারতীয় ইংরাজি সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’ একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে দাবি করা হয়, একতরফা ভাবে এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাকি দুই কমিশনারের আপত্তিতে আমল দেওয়া হয়নি।
শুধু তাই নয়, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন, ভোটার ডেটাবেসে অ্যাক্সেস কেন্দ্রীভূত করা, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটার যুক্ত করার মতো বিষয় নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের অজ্ঞাতে নেওয়া হয়েছে বলেও দুই কমিশনারের তরফে আপত্তি জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন সামনে আসার পর জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী বিকাশ সিং। জ্ঞানেশ কুমার একার সিদ্ধান্ত বাকি নির্বাচন কমিশনারদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তুলে মামলাকারী দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হোক। আবেদনকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর আপত্তি সত্ত্বেও বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছিল। ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা, পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম সংক্রান্ত আপিল এবং গোয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক বিষয় আদালতের নজরে আনা হয়েছে।
তবে জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার আর্জি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত পর্যবেক্ষণ, 'শুধুমাত্র সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ফলে সাসপেন্ড করার কোনও যুক্তি নেই। আমরা অবশ্যই কমিশনের জবাব চাইব। যদি আমরা দেখি যে কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তাহলে আমরা তা বাতিল করে দিতে পারি।'
