দিল্লি, নিউজ ডেস্ক: কোনও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইনি সুরক্ষার সীমা ঠিক কতটা? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এবার নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের জবাবদিহি নিয়ে যখন নানা মহলে আলোচনা চলছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের বৈধতা খতিয়ে দেখার পথে এগলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষার পরিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্রে খবর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের দফতরের কাজের জন্য দেওয়া আইনি দায়মুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ। মামলাটি দায়ের করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস। আদালত কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনারকে এই বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলেছে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৩ সালের 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনার আইনে'র ১৬ নম্বর ধারা। ধারায় বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালন করার সময় কোনও কাজ, মন্তব্য বা পদক্ষেপের জন্য বর্তমান কিংবা প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলা গ্রহণ ও চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
এডিআরের বক্তব্য, এই বিধান নির্বাচন কমিশনারদের এমন এক ধরনের বিস্তৃত আইনি সুরক্ষা দিয়েছে, যার সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, সংবিধান কিংবা অন্য কোনও আইনে তাঁদের জন্য এই ধরনের শর্তহীন ও আজীবন দায় মুক্তির ব্যবস্থা নেই। মামলাকারীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের বক্তব্য ছিল, এ ধরনের সুরক্ষা সম্ভবত রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও বিচারপতিদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। তবে, বিতর্কিত ধারাটির কার্যকারিতা এখনও পর্যন্ত স্থগিত হয়নি।
উল্লেখ্য, 'লোকপ্রহরী' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এর আগে একই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই মামলাতেও কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ দেওয়া হয়। এবার, এডিআরের আবেদনের সঙ্গে মামলাটি যুক্ত করেছে শীর্ষ আদালত। আগামী দিনে এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিষয়টি শুধুমাত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের আইনি সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা। তবে, এই পর্যায়ে ২০২৩ সালের আইনের ১৬ নম্বর ধারাকে অসংবিধানিক ঘোষণা করেনি শীর্ষ আদালত। কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য শোনার পরেই এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।