নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করল না দেশের শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারকে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত স্বস্তিতেই থাকছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী।
২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলায় পুলিশ মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছিল। ঘটনাটি ঘটে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন। গ্রেফতারির পর জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মিলন। শুনানির পর হাই কোর্ট তাঁকে ছ’টি মামলায় তিন সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। বুধবার সেই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশে তারা হস্তক্ষেপ করছে না।
রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর যুক্তি ছিল, মিলন প্রধান যেহেতু নির্বাচনে প্রার্থী, তাই তাঁকে অন্য অভিযুক্তদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনে লড়ছেন বলে কেন একজন অভিযুক্ত বিশেষ সুবিধা পাবেন? তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, একই পরিস্থিতিতে অন্য কোনও অভিযুক্ত থাকলে তিনি জামিন পেতেন না বলেও দাবি করেন রাজ্যের আইনজীবী।
তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, মামলার মূল অভিযোগ বা ‘মেরিট’ নিয়ে এই পর্যায়ে কোনও মন্তব্য করছে না তারা। আদালতের বক্তব্য, মিলন প্রধান যদি অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন, সে ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার তার সমস্ত বক্তব্য ও যুক্তি আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আগামী ২১ অক্টোবর হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে মিলন প্রধানকে। তবে তার আগে যদি তিনি জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন, সেই আবেদনের বিরোধিতা করার সুযোগ রাজ্যের থাকবে।
মিলন প্রধানকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল তাঁর গ্রেফতারির পর থেকেই। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানানো হয়েছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় তাঁর গ্রেফতারির ঘটনা সামনে আসে। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ নিয়ে আদালত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।
নন্দীগ্রাম আসনটি এবারের উপনির্বাচনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়।
নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। মঙ্গলবারই এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোটগণনার দিকে নজর গোটা রাজ্যের। তার আগেই সুপ্রিম কোর্টে মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বহাল থাকার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
