বীরভূম, অঙ্কন দাস: 'আকস্মিক ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমি শোকস্তব্ধ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। যাঁরা আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব, তাঁদের এই দুঃসহ শোক সহ্য করার শক্তি ঈশ্বর প্রদান করুন। একইসঙ্গে, যাঁরা আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত ও পরিপূর্ণ সুস্থতা প্রার্থনা করছি।' তারাপীঠের ভয়াবহ প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়া 'এক্স হ্যান্ডেল' থেকে সমবেদনা বার্তা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই মুহূর্তে শেষ পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আট জন। গ্রেফতার করা হয়েছে ' বিদেশিনি' হোটেলের মালিক কে। তবে এর আগেই অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে নিজের বয়ান দিয়েছেন ওই হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পাল। তিনি বলেছেন - 'এই দিন ভোর ৪:৩০ নাগাদ এসির এনসিপি-তে শর্ট সার্কিট এর ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে হোটেলে থাকা নাইট গার্ড আর একটি ছেলেকে ডাকে। জাম্পার নামাতে গেলে ততক্ষণে ইলেকট্রিকের তারে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি হোটেলের লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার আগে ফায়ারের কলিংবেল বাজিয়ে দেওয়া হয়, সেটার ফলে হোটেলের রুমে থাকা যাত্রীরা সতর্ক হয়ে বাইরে বেরোতে শুরু করেন। তবে বিপদ বাড়ে,যখন ধোঁয়া আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে শুরু করে। আর ধোঁয়ার ফলে অনেকের শ্বাসকষ্ট হতে শুরু করে।'
এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে আসা এক দমকল কর্মী বলেন - 'বৃষ্টি হয়েছিল, সেখান থেকেই শর্ট সার্কিট হয়ে থাকতে পারে। হোটেলের পিছনের দরজা বন্ধ ছিল। সেখানে আমরা গ্যাস কাটার ব্যবহার করেছি। অনেকজন মানুষকে উদ্ধার করেছি। ওই বেসরকারি হোটেলে থাকা এক যাত্রী জানান 'আমরা অনেক রাত্রে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে ছিলাম, হঠাৎ ভোর ৪ঃ৩০ নাগাদ শুনতে পায় চিল্লাচিল্লি চলছে। চোখ খুলতেই দেখি চারিধারে শুধু ধোঁয়া। হোটেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আমরা কোনও রকমে হোটেল থেকে বেরিয়ে বাইরে এসে পৌঁছাই। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে শর্ট সার্কিটের ফলে আগুন লেগেছে। তবে হোটেলের নিচেই রান্না ঘর রয়েছে সেখান থেকেও আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে,আমরা নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারছি না।'
অগ্নিকাণ্ডে আহত এক আবাসিক জানান, আমার মা-সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ওই হোটেলে ছিলেন। কিন্তু আগুন লাগার পর তাঁদের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।' তীর্থযাত্রী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুরু হচ্ছে দুশ্চিন্তা এবং উৎকণ্ঠা। এই ঘটনা ঘটার পর এই হোটেলের আশেপাশে থাকা অন্যান্য হোটেলগুলি থেকে মানুষজন এসে আগুন নেভাতে থাকে। শুরু হয় আটকে থাকা যাত্রীদের সাহায্য করা। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি দমকলের ইঞ্জিন এসে আগুন নেভাতে থাকে। অগ্নিদগ্ধ যাত্রীদের দেহ পাঠানো হয় রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে।
দমকল এবং পুলিশের বিশাল বাহিনী এসে উপস্থিত হয় এই বেসরকারি হোটেলের বাইরে।ঘিরে ফেলা হয় গোটা হোটেল চত্বর।ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে তারাপীঠ থানার পুলিশ এবং রামপুরহাট থানার পুলিশ। দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে হোটেলের ভিতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে। দীর্ঘক্ষণ চলেছে এই তল্লাশি । এই ব্যাপারে বীরভূমের এসপি বিদিত রাজ বুন্দেশ বলেন - ' কেউ একজন ধোঁয়া দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দমকল মিলে ২২জন-কে উদ্ধার করা হয়েছে। আটজন মৃত। আমরা তদন্ত করছি। গাফিলতি থাকলে কোন ক্ষমা নেই।'