রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং সংঘাতের আবহে পালিত হচ্ছে এবারের শহীদ দিবস। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে দিনভর উত্তপ্ত ছিল তিলোত্তমার রাজপথ। একটিমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বদলে শহরজুড়ে তৃণমূলের তিনটি পৃথক গোষ্ঠীর বিচ্ছিন্ন সমাবেশই দলের ভেতরের সুপ্ত টানাপোড়েনকে প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে।
মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠান শুরু হতেই একাধিক স্থানে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় সূত্রানুসারে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে আচমকাই বিজেপি সমর্থকদের একটি দল জড়ো হয়ে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিতে শুরু করে এবং অবস্থান বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দেয়।
এর পাশাপাশি, তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে পথ আটকানোর গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, নদীয়ার চাপড়া ব্লকের মালিয়া পোতা অঞ্চল থেকে কলকাতাগামী তৃণমূলের একটি অংশ পূর্ব মেদিনীপুর থেকে আসা অপর একটি দলের বাস গতিরোধ করে। উল্লেখ্য, আক্রান্ত কর্মী-সমর্থকরা কলকাতার শহীদ মিনার ময়দানে আয়োজিত একটি সম্পূর্ণ আলাদা সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
শাসকদলের এই অন্তর্দ্বন্দ্বের পাশাপাশি বিরোধীদের প্রতিও বাধার প্রাচীর তৈরির অভিযোগ উঠে এসেছে। চণ্ডীপুর এলাকায় কংগ্রেসের একাধিক কর্মী বোঝাই বাস আটকে দেওয়া হয় বলে সুর চড়িয়েছে হাত শিবির। দলীয় কর্মীদের যাতায়াতে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেস সমর্থকরা কালবিলম্ব না করে রাস্তাতেই দীর্ঘ সময় শান্তিপূর্ণ ধর্নায় বসেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ দিবসের মতো সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক দিনেও দলের মধ্যে এই স্পষ্ট বিভাজন এবং তার সঙ্গে বিরোধী দলগুলির ওপর আক্রমণাত্মক অবস্থান শাসক শিবিরের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। একাধিক জায়গায় আলাদা সমাবেশ, প্রতিবাদের ঝড় এবং পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে বেশ স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, তা মঙ্গলবারের ঘটনাক্রমেই পরিষ্কার।